সমকালের একটি শিরোনাম “সংঘর্ষ-প্রাণহানির পর সতর্ক বিএনপি ও জামায়াত”
ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির পর ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত এবং আরও কয়েকজনের অঙ্গহানির পর সতর্ক উভয় দলই। অনেকেই বলছেন, বিএনপি-জামায়াতের দুই প্রার্থীর মধ্যে মধুর সম্পর্ক থাকার পরও হঠাৎ কেন তা অবনতি হলো, এ নিয়ে জল্পনা চলছে গারো পাহাড়ের আনাচে-কানাচে। এ ঘটনাকে কেউ বলছেন পরিকল্পিত, আবার অনেকের ধারণা জেতার আগেই জিতে যাওয়ার আবেগে সৃষ্ট উচ্ছৃঙ্খলতা। আবার অনেকের ভাষ্য, রাজনীতি এখন আর নেতাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর উচ্ছৃঙ্খল একদল তরুণ সর্বত্র আধিপত্য কায়েম করেছে। বড় দলগুলোর তৃণমূলেও এর প্রভাব পড়েছে।
এদিকে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহতের ঘটনার তিন দিন পর থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে নিহত রেজাউলের স্ত্রী মোছা. মার্জিয়া বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় এ হত্যা মামলা করেন। মামলায় ২৩৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ার দখল ঘিরে সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। এখনও উভয় দলের অন্তত ১০ থেকে ১২ কর্মী হাসপাতালে ভর্তি। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঝিনাইগাতী যুবদল নেতা আমজাদ হোসেনের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন জামায়াত নেতা তাহেরুল ইসলামের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেঁচে থাকলেও তিনি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে এক চোখ হারিয়েছেন বিএনপি কর্মী সুজাউদ্দৌল্লা।
শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী উভয় উপজেলার স্থানীয়রা জানান, শেরপুর-৩ আসনের বিএনপিপ্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অত্যন্ত নম্র-ভদ্র, বিনয়ী ও সদালাপী। জামায়াত প্রার্থী শিক্ষক নুরুজ্জামান বাদলও অত্যন্ত সরল ও সজ্জন ব্যক্তি। দুই প্রার্থীর গ্রামের বাড়িও একই উপজেলায়। রুবেলের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইগাতীর কেকেরচর। তাঁতীহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুজ্জামান। এই দুই প্রার্থী ও তাদের দলের নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও চমৎকার।
আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”নির্বাচনী প্রচারণা: প্রচারে আক্রমণ ছেড়ে প্রতিশ্রুতিতে জোর”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি। সেদিন থেকেই প্রধান দলগুলোর প্রার্থী তথা নেতারা প্রতিপক্ষকে কথার যুদ্ধে ঘায়েল করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। তবে নির্বাচনী প্রচারণা একটি সপ্তাহ পেরোতেই মাঠের রাজনীতির কৌশলগত রূপান্তর চোখে পড়ছে। ভোটের যুদ্ধে সক্রিয় দুই শীর্ষ দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয়ের প্রচারণায় তা স্পষ্ট।
একে অন্যকে তিক্ত দোষারোপ করা ও খুঁত খোঁজার কৌশল থেকে সরে এসে দলগুলোর মনোযোগ দৃশ্যত এবার ভোটারদের মন জয়ে। দুই বড় দলই এখন ভোটারদের সামনে তুলে ধরছে নানা প্রতিশ্রুতি, যার কেন্দ্রে রয়েছে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ।
বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের গত কয়েক দিনের নির্বাচনী প্রচারণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তাদের প্রচারণার ভাষা ও বার্তায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। নেতারা পরস্পরকে বাক্যবাণ ছোড়ার ক্ষেত্রে শুরুর তুলনায় অনেকটাই সংযত।
২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভা দিয়ে শুরু হয় বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার কাজ। এর পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিলেটের পর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গ সফর করেছেন তিনি। অন্যদিকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানও সমানতালে জনসভা করছেন দেশের নানা প্রান্তে। উত্তরবঙ্গ সফর দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি। বর্তমানে রয়েছেন নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ফেনী সফরে।
এখনকার জনসভা ও পথসভায় জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন দুই পক্ষের দুই নেতা। কিন্তু শুরুতে পারস্পরিক দোষারোপের তীব্রতায় অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায় জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি। একে অন্যের বিরুদ্ধে অতীতে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি জোরেশোরে টেনে আনেন ধর্ম বিষয়টিকেও। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সচেতন মহল সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত সেই জায়গা থেকে বের হয়েছেন নেতারা।
দুটি প্রধান জোটের নেতৃত্বে থাকা বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রধানের বক্তৃতায় এখন পারস্পরিক আক্রমণের বদলে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে আগামী সরকার তথা রাষ্ট্র নিয়ে তাঁদের পরিকল্পনা। ক্ষমতায় গেলে তাঁরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন এবং দেশের মানুষের জন্য কী কী কল্যাণের ব্যবস্থা করবেন, সে বিষয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন তাঁরা। অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে বিশেষ করে স্থান পাচ্ছে দুর্নীতি দমন ও চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়গুলো।
বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে”
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রংপুর অঞ্চলে কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। এজন্য উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে।’
গতকাল রাতে রংপুর নগরীর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘এতদিন জানতাম দিনাজপুরে কয়লার খনি আছে। আজকে এখানে এসে জানলাম আবু সাঈদের (জুলাই শহীদ) এলাকায় কয়লা খনি রয়েছে। এ কয়লা উত্তোলন করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়া সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘রংপুর হচ্ছে আবু সাঈদের রক্ত মেশানো পবিত্র মাটি। কাজেই এ ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। আবু সাঈদসহ ১ হাজার ৪০০ ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন। তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। এজন্য মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘রংপুর গরিব অঞ্চল হলেও সম্ভাবনাময়। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। কলকারখানা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে। রংপুর অঞ্চলের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বলতে যা বোঝায় তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
মানবজমিনের একটি শিরোন “বৃটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বাংলাদেশের”
কয়লার দাম ও বিদ্যুৎ শুল্ক নিয়ে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি আইন প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (এসআইএসি) মধ্যস্থতা ও সালিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান থ্রি ভিপি চেম্বার্স নামের লন্ডনভিত্তিক একটি আইনি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বিপিডিবি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ও আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে অভিজ্ঞ থ্রি ভিপি চেম্বার্স বাংলাদেশের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করবে। গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, কিংস কাউন্সেল ফারহাজ খান নেতৃত্বাধীন এই চেম্বার্সটি কয়েক মাস ধরে আদানির সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনাকারী জাতীয় কমিটিকে পরামর্শ দিয়ে আসছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো নিয়ে গঠিত জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পাঁচদিনের মধ্যেই এই আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো। বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর আদানি পাওয়ার সিঙ্গাপুরে সালিশ প্রক্রিয়া শুরু করায় বাংলাদেশকেও আইনি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।
সারাক্ষণ ডেস্ক 



















