বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের কেন্দ্র করেই সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভবিষ্যৎ পথচলা নির্ধারণ করছে। জ্ঞানকে যারা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার দেয়, তারাই বৈশ্বিক রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে পারে এবং আগামীর পৃথিবীকে আরও ভালো করে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়—এমন মন্তব্য করেছেন আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দুবাইয়ে আয়োজিত বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে তিনি বলেন, মানবতার কল্যাণে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে আমিরাত ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্বমানের বিজ্ঞানসম্মেলনের সূচনা
রোববার দুবাইয়ে শুরু হওয়া বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে একশর বেশি বিজ্ঞানী ও গবেষক অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে নোবেলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।
এই সম্মেলনটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্ব সরকার সম্মেলনের আয়োজন চলছে। নির্ধারিত এক দিনে রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতাদের সঙ্গে বিজ্ঞানীদের সরাসরি সংলাপের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নীতি নির্ধারণে বিজ্ঞানের ভূমিকা আরও দৃঢ় করবে।

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে বিজ্ঞানের ভূমিকা
সম্মেলনের আলোচনায় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে মানবসভ্যতার অগ্রগতি ধরে রাখতে মৌলিক বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বলেন, বিজ্ঞানীরা কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নন; ভবিষ্যৎ গঠনে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশীদার হতে হবে। জ্ঞান ও গবেষণায় বিনিয়োগই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার একমাত্র টেকসই পথ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আমিরাতের বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এই সম্মেলন আমিরাতের বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। টেকসই সমৃদ্ধি ও উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর দেশটির ভবিষ্যৎ নির্মিত হচ্ছে। তার আশা, এই সংলাপ থেকে উদ্ভাবনী সমাধান বেরিয়ে আসবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।
বিজ্ঞানই সভ্যতার সত্যিকারের সম্পদ
উদ্বোধনী বক্তব্যে শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম বলেন, বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন থেকেই সভ্যতার জন্ম। আমিরাত উদ্ভাবকদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে, যাতে অসম্ভবকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। তার ভাষায়, মানুষই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর বিজ্ঞানের মাধ্যমেই সবার জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।

আমিরাতে নতুন বৈশ্বিক বিজ্ঞান কেন্দ্রের পরিকল্পনা
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের সংগঠনের সভাপতি ও রসায়নে নোবেলজয়ী অধ্যাপক রজার কর্নবার্গ জানান, আমিরাতে একটি নতুন বৈশ্বিক বিজ্ঞান কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, আমিরাত শুধু বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ অনুসরণ করছে না, বরং তার দিকনির্দেশনাই দিচ্ছে। তিনি বলেন, এই সম্মেলনে বিজ্ঞান, সরকার ও অর্থনীতি একসঙ্গে এসেছে, যা আগে খুব কমই দেখা গেছে।
সিদ্ধান্ত ও আবিষ্কারের মিলনমঞ্চ
সম্মেলনের আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশ রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ, শক্তি ও প্রযুক্তির মতো বিষয় উঠে আসছে। উদ্দেশ্য একটাই—বিজ্ঞান যেন শুধু বোঝা না হয়, বরং নীতি নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আমিরাতের আয়োজনে এই সম্মেলন তাই বৈশ্বিক বিজ্ঞান সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















