আসন্ন ফসল মৌসুমে দেশের কৃষিখাতে চাহিদা পূরণে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক ও সিদ্ধান্ত
চলতি বছরের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পঞ্চম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কনফারেন্স কক্ষে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানি
বৈঠকে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ১১তম ঐচ্ছিক লটের আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫১ মার্কিন ডলার।
একই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭তম ও ১৮তম লটের আওতায় প্রতিটি লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। প্রতিটি লটের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

২০২৬ সালের জন্য ডিএপি আমদানি
কমিটি সৌদি আরবের মাআদেন কোম্পানি থেকে ২০২৬ সালের প্রথম লটের আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির সুপারিশ করেছে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩২৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
ইউরিয়া সার সংগ্রহ
এছাড়া দেশের কারখানা কাফকো থেকে বস্তাবন্দি দানাদার ইউরিয়া সার ৩০ হাজার মেট্রিক টন সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। পাশাপাশি সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে, এতে ব্যয় হবে প্রায় ২০৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সার আমদানির মাধ্যমে কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















