নারীবিদ্বেষী অপরাধীর বিরুদ্ধে এক আদর্শবাদী নারী পুলিশের রুখে দাঁড়ানো পর্দায় দেখার আলাদা তৃপ্তি আছে। একের পর এক ঘুষিতে যখন অন্যায়ের জবাব দেওয়া হয়, তখন দর্শক হিসেবে হাততালি দিতে ইচ্ছে করে। বাস্তব জীবনে নারীর বিরুদ্ধে প্রতিদিন ঘটে চলা ভয়ংকর ঘটনার ভিড়ে এমন দৃশ্য যেন এক ধরনের মানসিক মুক্তি এনে দেয়। এই অনুভূতি আরও গভীর হয় যখন সেই চরিত্রে থাকেন রানি মুখার্জির মতো প্রভাবশালী অভিনেত্রী। অল্প কাজ করলেও প্রতিবারই তিনি মনে করিয়ে দেন, কেন তাঁকে আরও বেশি পর্দায় দেখা প্রয়োজন।
মারদানি সিরিজে রানি মুখার্জি পেয়েছেন নিজের শক্ত ভিত গড়া এক চরিত্র, সাহসী পুলিশ শিবানী শিবাজি রায়। আগের দুই পর্ব দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে প্রশ্ন ওঠে, আদৌ কি আরেকটি পর্বের প্রয়োজন ছিল। তবু নতুন গল্পের অভাবের এই সময়েই দর্শক হাজির হন শিবানীর আরেক অভিযানে।

নারীই যখন প্রতিপক্ষ
এই পর্বের সবচেয়ে বড় চমক শিবানীর প্রতিপক্ষ একজন নারী। আম্মা নামের এই চরিত্রটি প্রমাণ করে নিষ্ঠুরতা কেবল লিঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধারণাটি নিঃসন্দেহে আগ্রহ জাগানোর মতো, কিন্তু পরিচালক অভিরাজ মিনাওয়ালা যদি এই চরিত্রের মানসিক গঠন ও সামাজিক প্রেক্ষাপট আরও গভীরভাবে তুলে ধরতেন, তবে ছবির প্রভাব অনেক বেশি হতো।
গ্রামের পটভূমিতে কাহিনির শুরু
ছবির শুরু গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে। দুই কিশোরীর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা ঘিরে গল্প এগোয়। একজন কূটনীতিকের মেয়ে, অন্যজন সাধারণ পরিবারের সন্তান। এই বৈষম্যই ধীরে ধীরে বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। শিবানীর আগমন মানেই আশার আলো, আর এখান থেকেই খুলে যায় কন্যাশিশু পাচারের ভয়াবহ চক্র।
প্রথমার্ধের দৃঢ়তা

প্রথমার্ধে ছবি বেশ টানটান। আম্মার চরিত্রটি ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়। তাঁর উপস্থিতি শিবানীর জন্য সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। সহজে সূত্র ভাঙার কিছু দৃশ্য চোখে পড়লেও সামগ্রিকভাবে উত্তেজনা ধরে রাখতে সক্ষম হয় গল্প।
দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দপতন
বিরতির পর হঠাৎ নতুন এক খলনায়কের আবির্ভাব ছবির গতি নষ্ট করে দেয়। বাস্তবধর্মী থ্রিলার থেকে গল্প ঢুকে পড়ে অতিরঞ্জিত ধারায়। অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা, অতিনাটকীয় অ্যাকশন আর অবাস্তব মোড় মূল বিষয়কে দুর্বল করে দেয়। যে ছবি নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল, সেটিই ধীরে ধীরে উদ্দেশ্য হারাতে থাকে।
বার্তা আছে, কিন্তু ছড়িয়ে যায়
ছবির কেন্দ্রে থাকা বার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান আর সাধারণ মানুষের সন্তানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রযন্ত্রের আচরণের পার্থক্য স্পষ্টভাবে উঠে আসে। একই সঙ্গে লোভ আর পুঁজির অমানবিক দিক নিয়েও ইঙ্গিত দেওয়া হয়। তবে এত বিষয় একসঙ্গে ধরতে গিয়ে চিত্রনাট্য দিশেহারা হয়ে পড়ে।

রানির শক্ত অভিনয়, বাকিরা ফিকে
সব সীমাবদ্ধতার মাঝেও ছবিকে টিকিয়ে রাখেন রানি মুখার্জি। তাঁর চোখের দৃঢ়তা, সংলাপ বলার ভঙ্গি আর উপস্থিতি দর্শককে আটকে রাখে। কিন্তু অন্য চরিত্রগুলো অনেকটাই ফাঁপা। সহকারী চরিত্রে জ্যাঙ্কি বোদিওয়ালার সম্ভাবনা ঠিকভাবে ব্যবহার হয়নি। আগের পর্বের স্মরণীয় খলনায়কদের তুলনায় এই ছবির মূল অপরাধী চরিত্রটি বেশ দুর্বল।
শেষ কথা
অভিজ্ঞতা আর সময়ের সঙ্গে শিবানী শিবাজি রায়ের চরিত্র আরও পরিণত হয়েছে। তবু তাঁর জন্য প্রয়োজন আরও শক্তিশালী মামলা আর ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। শক্ত শুরু করেও মারদানি থ্রি শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















