ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে আইনি ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং পশ্চিম এশিয়ার প্রকৃত নিরাপত্তা চিত্রকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করার নামান্তর। বাহিনী বলেছে, ওয়াশিংটনের চাপের রাজনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রাসেলস নিজের স্বাধীন অবস্থান বিসর্জন দিয়েছে।
জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন
বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। তারা বলেছে, দেশজুড়ে যে জাতীয় ঐকমত্য দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে সংকটকালে এই বাহিনীর ভূমিকা ইরানি সমাজ কতটা গভীরভাবে অনুধাবন করে। সিদ্ধান্তের পর দেশীয় সংহতি আরও দৃঢ় হয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তাদের মতে, একটি রাষ্ট্রের নিয়মিত সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের ভিত্তিকে দুর্বল করে। এই ধরনের রাজনৈতিক তকমা বাহিনীর কার্যক্রম থামাতে পারবে না বলে ও স্পষ্ট করেছে তারা।
দায়েশবিরোধী লড়াইয়ে ভূমিকা
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, দুই হাজার দশ সালের দিকে দায়েশ যখন ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে গণহত্যা চালিয়েছিল, তখন স্থানীয় মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে এই বাহিনী ছিল প্রতিরোধের কেন্দ্রে। সেই লড়াইয়ে শত শত সদস্য ও শীর্ষ কমান্ডারের জীবন গেছে। তাদের মতে, এই প্রতিরোধ না হলে সন্ত্রাস ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ত।
ইউরোপের দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই পদক্ষেপ বৃহত্তর পশ্চিমা কৌশলের অংশ, যেখানে তেহরানকে আলাদা করে নিশানা করা হয়। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ইউরোপ ইসরায়েলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে নীরব থেকেছে, অথচ ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতমুখী অবস্থান নিয়েছে। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়বে এবং কূটনীতির পরিসর সংকুচিত হবে।

ইউরোপে সন্ত্রাসী আশ্রয়ের অভিযোগ
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সংসদে বলেন, ইউরোপ সেই বাহিনীকেই আঘাত করছে, যারা ইউরোপীয় শহরগুলোতে সন্ত্রাস পৌঁছাতে দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপের একাধিক দেশ ইরানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক আশ্রয়, গণমাধ্যমের মঞ্চ ও নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার মানবিক বিপর্যয়ে ইউরোপের নীরবতাও তুলে ধরেন তিনি।
ইউরোপে ইরানবিরোধী নেটওয়ার্ক
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রায় সব বিচ্ছিন্নতাবাদী ইরানি গোষ্ঠীর কার্যক্রমের কেন্দ্র ইউরোপ। এর মধ্যে মুজাহিদিনে খালক সংগঠন উল্লেখযোগ্য, যারা আশির দশকে উনিশ হাজারের বেশি ইরানিকে হত্যা করেছে এবং বর্তমানে ইরানের ভেতরে নাশকতা ও হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলকে সহায়তা করছে। এই সংগঠনের ঘাঁটি ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও আলবেনিয়ায় বলে অভিযোগ করা হয়।

ভবিষ্যৎ অবস্থান
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, দেশের ভেতরে ও বাইরে তাদের নিরাপত্তা ও বেসামরিক দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং সন্ত্রাস মোকাবিলায় তারা আগের মতোই দৃঢ় থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















