ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু আলোচনা আবার শুরু হতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিলছে কূটনৈতিক তৎপরতায়। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, উচ্চপর্যায়ের আলোচনার জন্য দুই পক্ষই প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর সম্ভাব্য বৈঠকটি হতে পারে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে খুব শিগগিরই।
কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন গতি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের অভিজ্ঞ কূটনীতিক মজিদ তাখত-রাভাঞ্চি ও কাজেম ঘরিবাবাদি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার কাঠামো তৈরি হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত সময়সূচি ও আনুষ্ঠানিকতা এখনো নির্ধারণের পর্যায়ে।

ভাঙনের পর নতুন অধ্যায়
গত বছরের জুনে পরোক্ষ আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এটি হবে বড় ধরনের অগ্রগতি। তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেয়। সেই উত্তেজনা দ্রুতই সংঘাতে রূপ নেয় এবং টানা বারো দিনের যুদ্ধ হয়। ইরানের প্রতিরোধের পর শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যাকে তেহরান কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছে।
আলোচনায় প্রস্তুত তেহরান
এক সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরান কখনোই কূটনীতি থেকে সরে আসেনি। তাঁর ভাষায়, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতেই সংলাপ হতে হবে। একই সময়ে তিনি সৌদি আরব, মিসর, তুরস্ক ও জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন, যা আঞ্চলিক সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।

আঞ্চলিক সমর্থন ও ইস্তাম্বুলের ভূমিকা
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইস্তাম্বুল বৈঠকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিসরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও এতে যুক্ত হতে পারেন। এই অংশগ্রহণ অঞ্চলজুড়ে সামরিক চাপের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি জোরালো বার্তা দিচ্ছে।
পরমাণু ইস্যুতে কড়া অবস্থান
ইরান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলি বাঘেরি জানিয়েছেন, আলোচনার কেন্দ্রে এমন কোনো প্রস্তাব নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই বলেন, বার্তা আদানপ্রদান চলছে, তবে ন্যায্যতা নিশ্চিত করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
![]()
সতর্কতা ও বাস্তবতা
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, আলোচনার কাঠামো এগোচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো আগ্রাসন হলে তা পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধে ঠেলে দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















