১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজলের মৃত্যু ভোট কারচুপিকারীরা ফ্যাসিস্টদের মতোই পরিণতি ভোগ করবে: নাহিদ খুলনায় গুলিতে যুবক নিহত বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭,৩৭৯ পণ্য বাংলাদেশি—এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়: সালাহউদ্দিন ভোলার মনপুরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৮ ৮ ফেব্রুয়ারির ঢাকা সমাবেশ বাতিল, বিভিন্ন স্থানে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান ব্যাংক লুট করতে কাউকে দেওয়া হবে না, সতর্ক করলেন জামায়াত আমির শাহবাগ অবরোধ ইনকিলাব মঞ্চের, পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে উত্তেজনা নকিলাব মঞ্চের মিছিলে গুলি চালানোর অভিযোগ নাকচ, পুলিশের অবস্থানকে সমর্থন অন্তর্বর্তী সরকারের

নকিলাব মঞ্চের মিছিলে গুলি চালানোর অভিযোগ নাকচ, পুলিশের অবস্থানকে সমর্থন অন্তর্বর্তী সরকারের

ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে ওঠা বিতর্কের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার কাছে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি। শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার বিকেলে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়।

সরকারের ব্যাখ্যা ও ঘটনাপ্রবাহ
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সমাবেশ ও জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিছিলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো বলপ্রয়োগ করেনি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তখন, যখন বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাহিনী হস্তক্ষেপ করে।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয় বলে জানানো হয়েছে। তবে পুরো ঘটনায় কোনো পর্যায়েই গুলি ছোড়া হয়নি বলে সরকার দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছে।

নিষেধাজ্ঞার কারণ ও পুলিশের ভূমিকা
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই যমুনা এলাকায় এই বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পুলিশ আইনসম্মত ও প্রক্রিয়াগত উপায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশও জানিয়েছে, অভিযানে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

আহতদের অবস্থা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, আহতদের কারও শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন নেই।

হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আন্তর্জাতিক তদন্ত
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। এ বিষয়ে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনি দিকসমূহ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের আহ্বান
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজলের মৃত্যু

নকিলাব মঞ্চের মিছিলে গুলি চালানোর অভিযোগ নাকচ, পুলিশের অবস্থানকে সমর্থন অন্তর্বর্তী সরকারের

১০:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে ওঠা বিতর্কের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার কাছে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি। শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার বিকেলে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়।

সরকারের ব্যাখ্যা ও ঘটনাপ্রবাহ
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সমাবেশ ও জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিছিলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো বলপ্রয়োগ করেনি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তখন, যখন বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাহিনী হস্তক্ষেপ করে।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয় বলে জানানো হয়েছে। তবে পুরো ঘটনায় কোনো পর্যায়েই গুলি ছোড়া হয়নি বলে সরকার দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছে।

নিষেধাজ্ঞার কারণ ও পুলিশের ভূমিকা
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই যমুনা এলাকায় এই বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পুলিশ আইনসম্মত ও প্রক্রিয়াগত উপায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশও জানিয়েছে, অভিযানে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

আহতদের অবস্থা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, আহতদের কারও শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন নেই।

হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আন্তর্জাতিক তদন্ত
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। এ বিষয়ে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনি দিকসমূহ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের আহ্বান
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।