০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
জেপিমরগান প্রধানের সতর্কবার্তা: ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আনতে পারে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা, প্রাণহানির খবর নেই তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক বার্তা ও উত্তেজনার টানাপোড়েন হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা চরমে, হামলার হুমকিতে পাল্টা জবাবের সতর্কতা ইরানের বেক্সিমকো ফার্মা নির্মিত শিশু হাসপাতালের নতুন বহির্বিভাগ চালু মার্চে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় ১৯.৭৮ শতাংশ কমেছে ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে মার্কিন নীতি: বিশ্বকে সতর্কবার্তা তেল আবিবে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, লেবাননে নিহত শিশুদের ছবি নিয়ে প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে জ্বালানি পাস ব্যবস্থা এই মাসেই চালু হচ্ছে, কিউআর কোডে নজরদারি

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, থমকে গেছে পণ্য খালাস ও কনটেইনার পরিবহন

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা না দেওয়ার দাবিতে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। রোববার সকাল আটটা থেকে কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন ও বহির্নোঙর—সব জায়গায় পণ্য খালাস ও পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ধর্মঘটে থমকে বন্দরের কার্যক্রম
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের চার নম্বর গেটের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভেতরে যানবাহনের চলাচল প্রায় নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশ দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আন্দোলনকারীদের কঠোর অবস্থান
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন জানিয়েছেন, দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাজ বন্ধ থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের নেতাদের হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং দুই শ্রমিক নেতাকে তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অন্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, আগের আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদার পুলিশের
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বন্দর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম জানান, বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।

পূর্বের কর্মসূচি থেকে লাগাতার ধর্মঘট
এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে তা লাগাতার কর্মবিরতিতে রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়। সাময়িক স্থগিতের পর নতুন করে ধর্মঘট ঘোষণার পেছনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও তদন্তসংক্রান্ত উদ্যোগকে দায়ী করছেন আন্দোলনকারীরা।

অর্থনীতিতে শঙ্কা
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা প্রধান উপদেষ্টার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠি দিয়েছেন। রমজান ও জাতীয় নির্বাচনের আগে বন্দরের এমন অচলাবস্থা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেপিমরগান প্রধানের সতর্কবার্তা: ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আনতে পারে

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, থমকে গেছে পণ্য খালাস ও কনটেইনার পরিবহন

০৬:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা না দেওয়ার দাবিতে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। রোববার সকাল আটটা থেকে কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন ও বহির্নোঙর—সব জায়গায় পণ্য খালাস ও পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ধর্মঘটে থমকে বন্দরের কার্যক্রম
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের চার নম্বর গেটের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভেতরে যানবাহনের চলাচল প্রায় নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশ দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আন্দোলনকারীদের কঠোর অবস্থান
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন জানিয়েছেন, দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাজ বন্ধ থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের নেতাদের হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং দুই শ্রমিক নেতাকে তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অন্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, আগের আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদার পুলিশের
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বন্দর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম জানান, বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।

পূর্বের কর্মসূচি থেকে লাগাতার ধর্মঘট
এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে তা লাগাতার কর্মবিরতিতে রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়। সাময়িক স্থগিতের পর নতুন করে ধর্মঘট ঘোষণার পেছনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও তদন্তসংক্রান্ত উদ্যোগকে দায়ী করছেন আন্দোলনকারীরা।

অর্থনীতিতে শঙ্কা
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা প্রধান উপদেষ্টার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠি দিয়েছেন। রমজান ও জাতীয় নির্বাচনের আগে বন্দরের এমন অচলাবস্থা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।