০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
শিনজিয়াং ও তিব্বতে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন: সীমান্তে বাড়ছে কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা রাশিয়ার যুদ্ধে আফ্রিকার তরুণরা—চাকরির প্রলোভনে ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে মৃত্যুফাঁদ স্থিতিশীলতাই অগ্রাধিকার: কৌশলগত সতর্কতার ইঙ্গিত দিলেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতের অর্থনীতির নতুন হিসাব: আকার কিছুটা ছোট, কিন্তু প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত যুদ্ধের ছায়ায় দুবাই: নিরাপত্তার ভাবমূর্তি কি টিকিয়ে রাখতে পারবে মরু শহর? আবাসন খাত টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চাইল রিহ্যাব তুরস্কের আদানা কনস্যুলেট থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের বাধ্যতামূলক প্রত্যাহার বাংলাদেশের নেতৃত্বে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে আশাবাদী বিমসটেক মহাসচিব এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না: কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় নৌবাহিনী মোতায়েন করল পাকিস্তান

তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে সংবেদনশীল নানা তথ্য। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের সময়কালে গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রেক্ষাপট
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান।

ডিজিএফআই সেলে আটক ও নির্যাতনের চিত্র
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত হত্যার লাইসেন্সের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বর্তমান অবস্থা
গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিনজিয়াং ও তিব্বতে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন: সীমান্তে বাড়ছে কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা

তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

০৬:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে সংবেদনশীল নানা তথ্য। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের সময়কালে গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রেক্ষাপট
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান।

ডিজিএফআই সেলে আটক ও নির্যাতনের চিত্র
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত হত্যার লাইসেন্সের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বর্তমান অবস্থা
গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।