০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
জেপিমরগান প্রধানের সতর্কবার্তা: ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আনতে পারে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা, প্রাণহানির খবর নেই তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক বার্তা ও উত্তেজনার টানাপোড়েন হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা চরমে, হামলার হুমকিতে পাল্টা জবাবের সতর্কতা ইরানের বেক্সিমকো ফার্মা নির্মিত শিশু হাসপাতালের নতুন বহির্বিভাগ চালু মার্চে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় ১৯.৭৮ শতাংশ কমেছে ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে মার্কিন নীতি: বিশ্বকে সতর্কবার্তা তেল আবিবে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, লেবাননে নিহত শিশুদের ছবি নিয়ে প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে জ্বালানি পাস ব্যবস্থা এই মাসেই চালু হচ্ছে, কিউআর কোডে নজরদারি

তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে সংবেদনশীল নানা তথ্য। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের সময়কালে গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রেক্ষাপট
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান।

ডিজিএফআই সেলে আটক ও নির্যাতনের চিত্র
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত হত্যার লাইসেন্সের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বর্তমান অবস্থা
গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেপিমরগান প্রধানের সতর্কবার্তা: ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আনতে পারে

তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

০৬:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে সংবেদনশীল নানা তথ্য। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের সময়কালে গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রেক্ষাপট
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান।

ডিজিএফআই সেলে আটক ও নির্যাতনের চিত্র
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত হত্যার লাইসেন্সের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বর্তমান অবস্থা
গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।