০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে সংবেদনশীল নানা তথ্য। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের সময়কালে গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রেক্ষাপট
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান।

ডিজিএফআই সেলে আটক ও নির্যাতনের চিত্র
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত হত্যার লাইসেন্সের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বর্তমান অবস্থা
গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

০৬:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে সংবেদনশীল নানা তথ্য। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের সময়কালে গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রেক্ষাপট
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান।

ডিজিএফআই সেলে আটক ও নির্যাতনের চিত্র
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত হত্যার লাইসেন্সের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বর্তমান অবস্থা
গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।