১১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি: চ্যাম্পিয়ন পাবে ৫ কোটি ডলার, বাড়ছে সব দলের পুরস্কার দাপুটে জয়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ, শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে ভাগ্য জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর সেনা হেফাজতে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রিকশা ছিনতাইয়ের সন্দেহে রাজবাড়ীতে চালককে হত্যা, মরদেহ উদ্ধার যশোরে তরুণ সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার, মানসিক চাপে মর্মান্তিক পরিণতি মেক্সিকোতে আইনকে হাতিয়ার বানিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ গুরগ্রামে আটক ১৩ বাংলাদেশি নাগরিককে মালদায় পাঠাল পুলিশ, শুরু হচ্ছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নির্বাসিত মিয়ানমারের রাঁধুনিদের হাতে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে দেশটির খাবার ফেনীতে মহাসড়কে বাসচাপায় নারী নিহত, উদ্ধার করেও বাঁচানো গেল না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘনঘটা-২: বর্ষার ছন্দে জমে উঠল নৃত্য উৎসব

তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে সংবেদনশীল নানা তথ্য। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের সময়কালে গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রেক্ষাপট
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান।

ডিজিএফআই সেলে আটক ও নির্যাতনের চিত্র
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত হত্যার লাইসেন্সের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বর্তমান অবস্থা
গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি: চ্যাম্পিয়ন পাবে ৫ কোটি ডলার, বাড়ছে সব দলের পুরস্কার

তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

০৬:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে সংবেদনশীল নানা তথ্য। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের সময়কালে গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রেক্ষাপট
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান।

ডিজিএফআই সেলে আটক ও নির্যাতনের চিত্র
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত হত্যার লাইসেন্সের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বর্তমান অবস্থা
গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।