০৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ডনের প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশে পুনরুত্থিত জামায়াত একটি দল দাঁতে ধার দিয়ে শকুনের মতো অপেক্ষায়: আসিফ মাহমুদ রাতের অন্ধকারে পাচারের পথে ধরা ট্রাকভর্তি সরকারি সার, গ্রেপ্তার দুই আওয়ামী লীগ আমলের ২৩ হাজার ৮৬৫ রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা নয়: বিডা চেয়ারম্যান পূর্ব এশিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সমৃদ্ধির দুয়ার, প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা সুযোগ সন্ধানীদের জন্য নয় ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, মুক্তির বার্তা দিলেন জামায়াত আমির সংখ্যালঘু প্রশ্নকে জাতীয় ইস্যু না করলে টিকবে না গণতন্ত্র নারী অবমাননাকর মন্তব্যে জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি, নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে সংকট, সমাধানে লাহোরে আইসিসি প্রতিনিধিদল

তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে সংবেদনশীল নানা তথ্য। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের সময়কালে গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রেক্ষাপট
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান।

ডিজিএফআই সেলে আটক ও নির্যাতনের চিত্র
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত হত্যার লাইসেন্সের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বর্তমান অবস্থা
গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডনের প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশে পুনরুত্থিত জামায়াত

তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

০৬:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে সংবেদনশীল নানা তথ্য। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের সময়কালে গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রেক্ষাপট
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং পরে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান।

ডিজিএফআই সেলে আটক ও নির্যাতনের চিত্র
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আচরণের সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। পরে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত হত্যার লাইসেন্সের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বর্তমান অবস্থা
গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।