দ্রুত বদলে যাওয়া আকাশ রেখার শহর দুবাইয়ে একটি জিনিস স্থির থেকেছে—মসৃণ রুপালি গতিতে ছুটে চলা মেট্রো। কারও কাছে এটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম হলেও অনেকের কাছে এটি স্মৃতি, আশা আর টিকে থাকার গল্প বয়ে নেওয়া এক চলমান জীবনচক্র। সেই অভিজ্ঞতাকেই মঞ্চে তুলে ধরছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ‘মেট্রো ডায়েরিজ’, যা এবার দুবাইয়ে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে।
অভিবাসী যাত্রার প্রতীক হিসেবে মেট্রো
স্বাধীন শিল্পীগোষ্ঠীর এই প্রযোজনায় মেট্রোকে ধরা হয়েছে অভিবাসী জীবনের প্রতীক হিসেবে। ব্যস্ত সময়ের ভিড়, প্রতিদিনের সংগ্রাম এবং নতুন দেশে নিজের জায়গা খুঁজে নেওয়ার পথ—সবকিছুর প্রতিফলন দেখা যায় এই যাত্রায়। নির্মাতাদের ভাষায়, এটি অতীতের শুরু, বর্তমানের অর্জন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নকে একসঙ্গে বহন করা এক প্রতীকী পথচলা।

ছোট অর্জনেও বড় স্বস্তি
নাটকের এক আবেগঘন মুহূর্তে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর নিজের একটি ঘর পাওয়ার স্বস্তি। ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে থাকার জীবনে দিনের শেষে নিজের বলে কিছু পাওয়া মানে গভীর মানসিক প্রশান্তি। নির্মাতারা মনে করেন, ছোট সাফল্যও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয় এবং অভিবাসী জীবনের পথচলায় এই ছোট জয়গুলো সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
বাস্তব অভিজ্ঞতার নির্মাণ
এই প্রযোজনার সংলাপ ও দৃশ্যের বড় অংশই শিল্পীদের ব্যক্তিগত ডায়েরি ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া। যাতায়াতের পথে মানুষের প্রার্থনা, পড়াশোনা কিংবা ফোনে কথা বলার মতো দৈনন্দিন দৃশ্যও স্থান পেয়েছে মঞ্চে। ফলে গল্পগুলো ব্যক্তিগত হলেও তা জাতি বা দেশের সীমা ছাড়িয়ে সবার অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যায়।
সহনশীলতার মুখোশ ভাঙার চেষ্টা

বিদেশে কর্মরত অভিবাসীদের প্রায়ই অদম্য শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এই নাটক সেই চিত্রের আড়ালে থাকা মানসিক চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং নিঃসঙ্গতার বেদনা তুলে ধরে। অনেকেই নিজের কষ্ট নিয়ে কথা বলতে অপরাধবোধে ভোগেন, কারণ তাদের আয়ের ওপর নির্ভর করে প্রিয়জনেরা। প্রযোজনাটি সেই নীরব যন্ত্রণাকে প্রকাশের জায়গা তৈরি করেছে।
সহমর্মিতার আহ্বান
প্রথম প্রদর্শনীর পর দর্শকদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া নির্মাতাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। কেউ কেউ মঞ্চে নিজের জীবনের প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছেন। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে চায় একটি বার্তা—নিজের সংগ্রামকে স্বীকার করা এবং অন্যের প্রতি সহমর্মী হওয়া জরুরি।

দুবাইয়ে প্রদর্শনীর সময়সূচি
‘মেট্রো ডায়েরিজ’ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাতটা এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটায় আলসেরকাল অ্যাভিনিউয়ের সিমা পারফর্মিং আর্টসে মঞ্চস্থ হবে। প্রযোজনাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানুষকে আহ্বান জানায় পাশের সহযাত্রীর গল্পটিও নতুন করে দেখার জন্য।




সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















