দক্ষিণ চীন সাগর এখনো অঞ্চলীয় শক্তিগুলোর মধ্যে বিরোধের মূল কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সমুদ্রের মালিকানা ও নৌ পথে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোপন এবং প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
ফিলিপাইনের উদ্যোগ: আর্থ-আইনি কোডের সমাপ্তির লক্ষ্য
ফিলিপাইন সরকার, এটি ২০২৬ সালে আসিয়ান চেয়ার থাকার সময়, দক্ষিণ চীন সাগরের জন্য একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আচরণ কোড (COC) চুক্তি করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তারা এই কোডটি চায় যাতে অঞ্চলীয় জলের বিরোধগুলো শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সংঘাত কমে।
আলোচনার গতি বৃদ্ধির পরিকল্পনা
যতক্ষণ পর্যন্ত বিরোধমূলক বিষয়গুলো সমাধান হয়নি, ততক্ষণ চুক্তি কার্যকর করা কঠিন। তাই ফিলিপাইন পররাষ্ট্র সচিব থেরেসা লাজারো বলেছে আসিয়ান এবং চীন মিলিয়ে আলোচনার কাজের গোষ্ঠীর সভা ত্রৈমাসিকের পরিবর্তে মাসিকভাবে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে কোডটি চূড়ান্ত করতে পারে।

মূল অসুবিধা: আইনগত প্রকৃতি এবং বিবাদ
কায়দা অনুযায়ী কোডটি কি শুধু রাজনৈতিক রূপরেখা হবে, নাকি তা আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত ১৯৮২ সালের ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্য ল’ অব দ্য সি অনুসারে আইনগতভাবে বাধ্য হবে—এই বিষয়টি এখনো মূল পর্যায়ে বিবাদ রয়েছে। ফিলিপাইনসহ বেশিরভাগ আসিয়ান দেশ চায় কোডটি আইনগত বাধ্যতামূলক হোক, কিন্তু চীন কিভাবে এতে সম্মতি দেবে তা এখনও প্রশ্ন।
চীনের ২০১৬ সালের আদালতের রায় এবং এর প্রভাব
২০১৬ সালে হেগের আন্তর্জাতিক স্থায়ী আদালত একটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দেয় যা চীনের দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং ফিলিপাইনের পক্ষে রায় দেয়। চীন সেই রায় অগ্রাহ্য করেছে এবং এটি কোড তৈরির আলোচনায় বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

মনের মানসিকতা ও আঞ্চলিক সম্পর্কের চাপ
ফিলিপাইন ও চীনের সম্পর্ক গত এক বছর ধরে চাপে রয়েছে ও একাধিক সামুদ্রিক বিরোধের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে আঞ্চলিক বিশ্বাসের পরিস্থিতি তিক্ত হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন এই চাপপূর্ণ সম্পর্ক কোড চুক্তি করতে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও সহযোগিতা
দক্ষিণ চীন সাগরের কোড নিয়ে শুধু ফিলিপাইন ও চীন নয়, অন্যান্য আসিয়ান দেশও যুক্ত। মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশও কোডটি চান যাতে সংঘাত এড়াতে ও স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা যায়। পাশাপাশি ফিলিপাইন জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশগুলোর সাথে সমুদ্র সুরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতাও বাড়াচ্ছে যাতে চীনের চাপ মোকাবিলা করা যায়।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথ
দক্ষিণ চীন সাগরের কোডগুলি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় রয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। চুক্তিটি যদি বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চয়ই অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও নৌ পথের স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে। কিন্তু মৌলিক মতভেদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে চীন ও আসিয়ান সদস্যদের মতামতের বিরোধ থাকায় বাস্তবিকভাবে এটি অর্জন করা সহজ হবে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















