ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রপতি প্রাবোভো সুবিয়ান্টো দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে এই নীতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির শেয়ার বাজারে সম্প্রতি বড় পতন ঘটে এবং মরউডি (Moody’s) ক্রেডিট আউটলুক ‘নেগেটিভ’ এ নামিয়ে দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা প্রধানত সরকারের বড়‑বড় ব্যয় এবং উচ্চ উন্নয়ন লক্ষ্যের কারণে উদ্বিগ্ন। দেশের অর্থনীতি বর্তমানে $1.4 ট্রিলিয়ন মূল্যের G20 অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে এবং এটি বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ কমোডিটি সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত।
বাজেট ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
গত মাসে আন্তর্জাতিক সূচক প্রদানকারী সংস্থা এসএমসিআই (MSCI) ইন্দোনেশিয়ার শেয়ার বাজার নিয়ে সতর্কবার্তা দেয়। এর প্রভাবে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বাজার মূলধন কমে যায়। পরের দিন মরউডি সংস্থা ইন্দোনেশিয়ার সরকারের এবং কোম্পানির ঋণের আউটলুক নেগেটিভে নামায়। সরকার যদিও শেয়ার মালিকানা এবং বাজার স্বচ্ছতার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে, তবুও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে যে প্রাবোভো প্রশাসন তাদের মূল নীতিগুলো থেকে সরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। সরকারের কাছে বিনামূল্যের খাদ্য, কৃষি উন্নয়ন, এবং উচ্চ বৃদ্ধি অর্জনের প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চ‑বৃদ্ধির লক্ষ্য ও সরকারি ব্যয়
প্রাবোভো ৮ শতাংশ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সরকার শিক্ষার্থী ও দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যের খাবারের ব্যবস্থা, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প, এবং আবাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ চালু রেখেছে। প্রাবোভোর মতে এই প্রকল্পগুলো দেশের কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করতে সাহায্য করবে। যদিও বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন এই ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকের মতামত
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ আরিয়ান্টো পাতুনরু বলছেন, প্রাবোভোর নীতি ১৯৯০-এর দশকের শেষের পর থেকে চলা অর্থনৈতিক নীতির ধারাকে ভেঙে দিয়েছে। তাঁর মতে, ৮ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জনের জন্য বড় পরিমাণে সরকারি ব্যয় প্রয়োজন, যা রাজস্ব সীমিত থাকা অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ। কর্ণেল ইউনিভার্সিটির সরকারি নীতি বিশেষজ্ঞ থমাস পেপিনস্কি বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বড় রাজস্ব বৃদ্ধির বা ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন হবে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমাতে পারে।

ভবিষ্যতের প্রভাব
বিশ্ববাজারে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে। যদি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সরকারী ব্যয়ের বিষয়ে সতর্ক না হয়, তবে ইন্দোনেশিয়ার বাজারের ‘এমার্জিং’ থেকে ‘ফ্রন্টিয়ার’ স্থিতিতে নামানো হতে পারে, যার ফলে প্রায় ৭.৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকার তাদের নীতি থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে না। তারা মনে করছে, দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই নীতিই সবচেয়ে কার্যকর।
সারসংক্ষেপ
ইন্দোনেশিয়ার সরকার বড় ব্যয় এবং উচ্চ বৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনায় দৃঢ়। আন্তর্জাতিক বাজারে শঙ্কা থাকলেও প্রাবোভোর নীতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অটল। বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ থাকলেও সরকার মনে করছে, এই ব্যয় দেশের অন্তর্নিহিত চাহিদা পূরণে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















