রংপুরে শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবিতে বিএনপি সমর্থকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পীরগাছা ও লাউনিয়া উপজেলায় বিক্ষোভকারীরা ইমদাদুল হক ভোরসাকে বিজয় থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ভোট পুনঃগণনা দাবি করেন।
হরাগাছ এলাকায় বন্ধ ও সড়ক অবরোধ
সকালের দিকে রংপুর-৪-এর হরাগাছ এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকে। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভে যোগ দিয়ে দাবী করেন যে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের ফলে বিএনপি প্রার্থী ইমদাদুল হক ভোরসা হেরেছেন। বিক্ষোভকারীরা হরাগাছ–রংপুর সড়ক অবরোধ করেন, টায়ার জ্বালিয়ে যান এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখেন।
লাউনিয়া উপজেলার হাকবাজারে উত্তেজনা
লাউনিয়া উপজেলার হাকবাজারে শুক্রবার বিকেল থেকে রাত প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলে। বিএনপি নেতা ও কর্মীরা জমায়েত হয়ে ভোট পুনঃগণনার দাবিতে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন। পীরগাছা উপজেলা শহরে সমর্থকরা র্যালি ও শোভাযাত্রা করে নির্বাচন কমিশন ও জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে দ্রুত ভোট পুনঃগণনার আহ্বান জানান।
প্রার্থীর অভিযোগ ও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
বিএনপি প্রার্থী ভোরসা অভিযোগ করেন, প্রায় ৮,৫০০ ভোট সন্দেহজনকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আখতার হোসেনের সমর্থকরা প্রশাসনিক সহযোগিতায় ভোটকেন্দ্রে হানাহানি ও সহিংসতা চালিয়ে ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। তিনি পুনঃগণনার জন্য সময়সীমা দেয়া এবং হুমকি দেন, যদি দাবি পূরণ না হয় তবে আরও কঠোর আন্দোলন হবে।
জয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপির কর্মীরা এনসিপি সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, সম্পদ লুট করেছে এবং মোটরসাইকেল নষ্ট করেছে। বিএনপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
ভোটের আনুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক ফলাফলের পার্থক্য
অফিশিয়াল নয় এমন ফলাফলের অনুযায়ী, রংপুর-৪-এ আখতার হোসেন ১,৪৯,৯৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর ভোরসা পান ১,৪০,৫৬৪ ভোট। রংপুর-৬ (পীরগাছা) আসনে জামায়াত-ই-ইসলামী প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন ১,২০,১২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন, সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১,১৭,৭০৩ ভোট।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















