সাম্প্রতিক সময়ে চীনের অর্থনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) মাত্র ০.২% বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনীতির মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হয়তো দেশকে ডিফ্লেশনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
মার্কিন বন্ডে চীনের নিয়ন্ত্রণ
ফেব্রুয়ারি ৯ তারিখে ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জানিয়েছে, তারা খুব বেশি মার্কিন সরকারী বন্ড রাখতে পারবে না। কিছু ব্যাংককে তাদের এক্সপোজার কমাতে বলা হয়েছে। এ খবরের প্রেক্ষিতে ডলারের مقابلায় ইউয়ানের মান বেড়েছে, এবং ট্রেজারি বন্ডের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বজনীন শঙ্কা যদিও “সিনো-আমেরিকান আর্থিক যুদ্ধের” দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হলেও, চীনের লক্ষ্য শুধু ব্যাংকগুলোকে বর্তমান জিওপলিটিক্যাল ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। ডলার বন্ডগুলো উচ্চ রিটার্নের কারণে চীনা ব্যাংকের কাছে আকর্ষণীয় হলেও, ডলারের দুর্বলতার ফলে ব্যাংকগুলো বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

কম দামের আমদানি, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস
একই সময়ে, কম দামের আমদানি এবং কম উৎপাদনমূল্য চীনের ডিফ্লেশনের প্রবণতাকে আরও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে পোর্কের দাম ১৪% কমলেও, সোনার গয়নার দাম ৭৭% বেড়েছে। “ফ্যাক্টরি গেট” পর্যায়ে মূল্য সূচক বছরের পর বছর ধরে হ্রাস পাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমাবদ্ধতা
ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউয়ানের মান নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। অতীতের মতো মুদ্রানীতি শিথিল করতে গিয়ে ইউয়ানের চাপ বাড়বে ভেবে এখন ব্যাংক আগ্রাসী হারে নীতি হার কমাতে সাহস পাচ্ছে না। তবে ব্যাংকগুলোর মুনাফা সীমিত থাকায় বড় সমস্যা রয়ে গেছে। ডিপোজিট ও ঋণের মধ্যে মার্জিন রেকর্ড লো ১.৪%—নিয়ন্ত্রকরা পরামর্শ দিয়েছেন ১.৮% হওয়া উচিত।
অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক “ওয়েট-অ্যান্ড-সিন” কৌশলে এগোচ্ছে। ব্যাংক অফ আমেরিকার হেলেন কিয়াও মতে, যদি এই বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সরকারী লক্ষ্য ৪.৫-৫% পূরণ না করতে পারে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনর্মূল্যায়ন করবে। তবে অর্থনীতি আরও দুর্বল হলে ব্যাংক দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে, তবে হয়তো যথেষ্ট নয়। কিছু পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীন দু’বছর আগে থেকেই ডিফ্লেশনে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















