মানুষে গর্ভাবস্থা সাধারণত ৪০ সপ্তাহ স্থায়ী হয়—এটি পাঠ্যপুস্তকের তথ্য। তবে বাস্তবে সব মায়ের শরীরই ঠিক সময়ে প্রসব শুরু করে না। অনেক ক্ষেত্রে, ৪০ সপ্তাহ পার হলেও প্রসবের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তখন ডাক্তার বা দাই প্রায়ই পরামর্শ দেন, প্রকৃতির উপর নির্ভর না করে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় প্রসব শুরু করা।
প্রসব শুরু করার চিকিৎসা কি নিরাপদ?
অস্ট্রেলিয়ার থম্পসন মেথড, আমেরিকার ন্যাশনাল পার্টনারশিপ এবং অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সাররা মনে করেন, চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট প্রসব প্রায়ই অন্যান্য চিকিৎসা হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন ব্যথা কমাতে এপিডুরাল, ফোর্সপস ডেলিভারি বা সিজারিয়ান সেকশন। তবে সর্বশেষ গবেষণা দেখায়, এই আশঙ্কার কোনো বড় প্রমাণ নেই।

হাসপাতাল কেন ইন্ডাকশন দেয়?
৪১ সপ্তাহ পার হওয়া গর্ভধারণে শিশুর মৃত্যু বা প্রসবের ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রথম ধাপে “মেমব্রেন সুইপ” করা হয়, যেখানে দাই বা ডাক্তার আঙুল দিয়ে গর্ভাশয়কে শিশুর অ্যামনিয়োটিক স্যাক থেকে আলাদা করেন। তারপরও labor না শুরু হলে ছোট বেলুন দিয়ে গর্ভাশয় প্রসারণে সাহায্য করা হয়, অথবা হরমোন দেওয়া হয়, বা পানি ভাঙা হয়। বড় হস্তক্ষেপ যেমন এপিডুরাল, ফোর্সপস বা সিজারিয়ান-এর সঙ্গে ইন্ডাকশনের সরাসরি সম্পর্ক খুব স্পষ্ট নয়।
গবেষণা কি বলছে?
কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্ডাকশন দেওয়া মায়েদের মধ্যে অন্যান্য হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু গবেষকরা সতর্ক করেছেন, দুটি মায়ের গ্রুপে পার্থক্য থাকায় ফলাফল বিভ্রান্তিকর হতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, যখন তুলনা করা হয় ইন্ডাকশন প্রাপ্ত এবং যাদের বাড়ি পাঠানো হয়েছে অপেক্ষা করার জন্য, সিজারিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক কমে যায়।
![]()
র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল ট্রায়াল বা RCT হলো মেডিকেল হস্তক্ষেপের সোনালি মানদণ্ড। ২০১৮ সালের আমেরিকার ARRIVE ট্রায়ালে প্রায় ৩,০০০ প্রথমবারের মায়ের ৩৯ সপ্তাহে ইন্ডাকশন দেওয়া হয়, আর অন্য ৩,০০০-কে অপেক্ষা করতে বলা হয়। ফলাফল দেখায়, অপেক্ষা করা গ্রুপে ২২% সিজারিয়ান হয়েছে, আর ইন্ডাকশন গ্রুপে ১৯%—একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। ২০২০ সালে ৩৪টি RCT-র সমীক্ষায় দেখা যায়, ৪১ সপ্তাহের পর ইন্ডাকশন সিজারিয়ানের হার সামান্য কমাতে সাহায্য করেছে, অন্যান্য হস্তক্ষেপ বাড়ায়নি।
শেষ কথা
প্রত্যেক মায়ের ক্ষেত্রে ইন্ডাকশন পরে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ এড়ানোর কোনো গ্যারান্টি নেই। হাসপাতাল ও মায়ের মনোভাব প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে, স্বয়ংক্রিয় হস্তক্ষেপের “ক্যাসকেড” নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















