ইসলামাবাদ থেকে জানা গেছে, ফেডারেল তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চোখের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিশেষ মেডিকেল প্রতিষ্ঠানেই পরীক্ষা করবেন। মন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সব চেকআপ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিস্তারিত প্রতিবেদন শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া হবে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তাপ
ইমরান খানের চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কারণে PTI আইনপ্রণেতা ও বিরোধী জোট তেহরিক তহাফুজ-ই-আইন পাকিস্তান (TTAP)-এর ধর্না চলেছে দ্বিতীয় দিনেও। পার্লামেন্ট হাউস, খাইবার পাখতুনখা হাউস এবং পার্লামেন্ট লজেসে শনিবার প্রদর্শিত এই ধর্নায় জাতীয় সংসদের বিরোধী নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই, সিনেট বিরোধী নেতা আল্লাম রাজা নাসির আব্বাস, KP-এর মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফরিদি এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্ডাপুরসহ অন্যান্য বিরোধী আইনপ্রণেতা অংশগ্রহণ করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও স্বাস্থ্যজনিত কারণ
ইমরান খান তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সাফদার ও সালমান আকরাম রাজার মাধ্যমে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে (IHC) একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। এই আবেদনে তিনি তোষাখানা-২ মামলার শাস্তি স্থগিত এবং চিকিৎসা ও মানবিক কারণে জামিনের আবেদন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইমরান খানের ডান চোখে রক্ত জমাটবদ্ধ হয়ে দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫% কমে গেছে এবং এই সমস্যা রাওয়ালপিন্ডি জেলেই চিকিৎসা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিযোগ
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তোষাখানা-২ মামলার শাস্তি ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক নির্যাতনের অংশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা মোকাবিলা করছেন। আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে জাতীয় হিসাব নীতি ব্যুরো (NAB), ফেডারেল তদন্ত সংস্থা (FIA) এবং পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন (ECP) রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ধর্না চলবে, চিকিৎসা নিশ্চয়তা
আচাকজাই সাংবাদিকদের বলেন, ধর্না চলবে যতক্ষণ না ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল ইসলামাবাদে নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যদি প্রমাণিত হয় যে ইমরানের চিকিৎসা জনিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তবে তা অপরাধমূলক অবহেলা হিসেবে গণ্য হবে। শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক রায় এবং ইমরানের নীরবতা রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা সৃষ্টি করেছে যে তার আইনি ও রাজনৈতিক শিথিলতা নিয়ে কোনো সমঝোতা হতে পারে কি না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















