মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মাঝে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন পরমাণু চুক্তি হলে তা হতে হবে উভয় পক্ষের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে পরমাণু কর্মসূচিতে নমনীয়তার ইঙ্গিতও দিয়েছে তারা।
জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠক
আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই দুই দেশ কয়েক দশকের পরমাণু বিরোধ নিরসনে আলোচনা পুনরায় শুরু করে। ব্যর্থ হলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে বলেও জানা গেছে।
তবে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটার কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার, যদিও ফলাফল অনিশ্চিত।

অর্থনৈতিক স্বার্থে জোর
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি বিভাগের উপপ্রধান হামিদ গনবারি বলেছেন, টেকসই চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেও দ্রুত ও উচ্চ মুনাফার অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে যৌথ স্বার্থ, খনি খাতে বিনিয়োগ এবং এমনকি বিমান কেনাবেচার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
তেহরানের দাবি, অতীতের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা পায়নি। ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন এবং পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
নমনীয়তার ইঙ্গিত, তবে শর্তে অটল
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার প্রস্তাবও বিবেচনায় আছে বলে জানান তিনি।

তবে একটি বিষয়ে তেহরান অনড়। দেশের ভেতরে শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মেনে নেবে না ইরান। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে এ দাবিই করে আসছে। ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
চীন-তেল রপ্তানি নিয়ে নতুন চাপ
এর মধ্যেই ইরানের তেল রপ্তানি কমাতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার উদ্যোগ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানির বড় অংশই চীনে যায়। এই বাণিজ্যে ধাক্কা লাগলে তেহরানের আয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যস্থতায় ওমান

আগের বহুপাক্ষিক আলোচনার বিপরীতে এবার আলোচনা সীমিত রয়েছে কেবল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও আলোচনার দরজা এখনো খোলা। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড়—এই সমীকরণেই নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক অগ্রগতি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















