ওয়াশিংটন থেকে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনার বার্তা মিলছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এমন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে এই অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা। এতে দুই দেশের মধ্যে আগের যেকোনো উত্তেজনার তুলনায় আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কূটনীতির পাশাপাশি যুদ্ধ প্রস্তুতি
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও সমান্তরালভাবে সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান চান, তবে তা সহজ নয়। অন্যদিকে ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
পেন্টাগন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর সঙ্গে হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ারসহ নানা আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যুক্ত হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কেবল সীমিত হামলা নয়, প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় একক হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার পরিকল্পনাকে আরও জটিল ও বিস্তৃত বলা হচ্ছে। সম্ভাব্য অভিযানে শুধু পারমাণবিক স্থাপনা নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
নর্থ ক্যারোলিনায় সামরিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানের সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে একই পরিস্থিতি চলছে। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

যদিও স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে ট্রাম্প অতীতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, তবে আকাশ ও নৌবাহিনী নির্ভর শক্তিশালী হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত স্পষ্ট। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে সব বিকল্পই টেবিলে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টই নেবেন।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার থাকায় দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

ইসরায়েলের উদ্বেগ ও বিরোধী শিবিরের প্রত্যাশা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ইরানের জনগণের জীবন বাঁচাতে পারে এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ত্বরান্বিত করতে পারে।
বাড়ছে আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ধারণা করছে, হামলা হলে ইরান পাল্টা জবাব দেবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টাপাল্টি আঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কূটনীতি ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক বড় সংঘাতের দ্বার খুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















