হলিউডের বহুমাত্রিক অভিনেতা রবার্ট ডুভাল ৯৫ বছর বয়সে না–ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার তিনি শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে তাঁর প্রয়াণে চলচ্চিত্রজগতে নেমে এসেছে গভীর শোক।
অস্কারজয়ী এক অনন্য অভিনয়জীবন
রবার্ট ডুভাল ১৯৮৩ সালে ‘টেন্ডার মার্সিস’ চলচ্চিত্রে এক ভেঙে পড়া কান্ট্রি গায়কের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার অস্কার জয় করেন। এই একটি চরিত্রই তাঁকে বিশ্বব্যাপী অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ক্যারিয়ারে তিনি আরও ছয়বার অস্কারের মনোনয়ন পান। শক্তিশালী নেতৃত্বের চরিত্র থেকে শুরু করে ভাঙাচোরা, দ্বন্দ্বময় মানুষের চরিত্র—সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি।
‘দ্য গডফাদার’ থেকে ‘অ্যাপোক্যালিপস নাও’
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে ডুভাল চিরস্মরণীয় টম হেগেন চরিত্রের জন্য, যেটি তিনি ‘দ্য গডফাদার’ ও এর দ্বিতীয় কিস্তিতে অভিনয় করেন। করলিওনে পরিবারের আইনজীবী হিসেবে তাঁর সংযত অথচ দৃঢ় অভিনয় আজও আলোচিত।
১৯৭৯ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অ্যাপোক্যালিপস নাও’-এ লেফটেন্যান্ট কর্নেল বিল কিলগোর চরিত্রে তাঁর সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিও দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলে। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর বিখ্যাত সংলাপ আজও সিনেমা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
অন্যদিকে ‘টু কিল আ মকিংবার্ড’-এ রহস্যময় বুউ র্যাডলি চরিত্রে তাঁর প্রথম দিকের অভিনয়ও সমালোচকদের নজর কেড়েছিল।
প্রিয় চরিত্র ছিল ‘লোনসম ডাভ’
টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘লোনসম ডাভ’-এ গাস ম্যাকরে চরিত্রকে তিনি নিজের প্রিয়তম কাজ বলে উল্লেখ করেছিলেন। আইনরক্ষক থেকে কাউবয়ে রূপান্তরিত এই চরিত্রে তিনি আমেরিকার পশ্চিমা ইতিহাসের এক বিশেষ মানসিকতা তুলে ধরতে পেরেছিলেন বলে মনে করতেন।

কাউবয় চরিত্রে তাঁর দক্ষতা আরও দেখা গেছে ‘ট্রু গ্রিট’ ও ‘ব্রোকেন ট্রেইল’-এ। পরেরটির জন্য তিনি সম্মানজনক পুরস্কারও অর্জন করেন।
ব্যক্তিজীবন ও শুরুর দিনগুলো
একজন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরালের সন্তান হিসেবে মেরিল্যান্ডে বেড়ে ওঠেন ডুভাল। কলেজ শেষ করে সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর অভিনয়ের টানে নিউ ইয়র্কে পাড়ি জমান। সেখানে সংগ্রামী অভিনেতা হিসেবে সময় কাটানোর সময় তিনি সমসাময়িক আরও দুই ভবিষ্যৎ তারকার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন।
হলিউডে দীর্ঘ পথচলায় প্রায় একশ’র কাছাকাছি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। কখনও প্রধান চরিত্রে, কখনও পার্শ্বচরিত্রে—তবে প্রতিটি ভূমিকাতেই তিনি চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতেন।
নিজের মতো করে সিনেমা
হলিউডের ব্যস্ততা থেকে ক্লান্ত হলে ডুভাল নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দেন। ‘দ্য অ্যাপোস্টল’ চলচ্চিত্রে তিনি লেখক, পরিচালক ও অভিনেতা—তিন ভূমিকাতেই কাজ করেন এবং আবারও অস্কার মনোনয়ন পান।
তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে আর্জেন্টিনার প্রতি বিশেষ টান ছিল। সেখানে তিনি তাঁর চতুর্থ স্ত্রী লুসিয়ানা পেদ্রাজার সঙ্গে পরিচিত হন। জীবনের শেষভাগে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস, আর্জেন্টিনা এবং ভার্জিনিয়ার খামারবাড়ির মধ্যে সময় ভাগ করে কাটাতেন।
শেষ বিদায়, অমর স্মৃতি
রবার্ট ডুভালের স্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিটি চরিত্রে তিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতেন। মানুষের আত্মার সত্যকে পর্দায় তুলে ধরাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
রবার্ট ডুভালের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র দুনিয়া হারাল এক অসাধারণ শিল্পীকে। কিন্তু ‘টেন্ডার মার্সিস’-এর অস্কারজয়ী সেই শিল্পী তাঁর অমলিন অভিনয়ের মাধ্যমে চিরকাল বেঁচে থাকবেন দর্শকের হৃদয়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















