ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ গ্যাংয়ের ১২ সদস্যকে আটক করেছে, এর মধ্যে দুই নারীও রয়েছেন।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন তুলিয়া আক্তার (সুমি), ২০; ডুলালী (মিম), ২০; মোঃ ওমর ফারুক, ৩২; মোঃ শফিকুল ইসলাম শান্তো, ৩৮; মোঃ সাজল তালুকদার, ৩৮; ইয়াসিন, ৪৩; মোঃ নাসির খান, ৪৬; সাদ্দাম, ৩৪; মেহেদী হাসান শাহরিয়া, ৩০; আজিজুল হাকিম তুতুল, ৩২; মোঃ কামরুল ইসলাম, ৩৮; এবং মোঃ রাব্বি, ২৫।
ডিএমপি’র ডেপুটি কমিশনার (ওয়ারী ডিভিশন) মালিক আহসান উদ্দিন সামি মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন।
দুটি পৃথক ঘটনায় গ্যাংয়ের স্বীকৃতি
ডিসি (ওয়ারী ডিভিশন) জানান, দুইটি পৃথক মামলার তদন্তের সময় দেখা গেছে, আটকেরা একই সংগঠিত গ্যাংয়ের সদস্য। গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ব্যবহার করে যাত্রাবাড়ি ও ডেমরা থানা পুলিশ সহ কয়েকটি টিম ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করে।
উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের উপর নিপীড়ন ও মুক্তিপণ দাবি
গ্যাংয়ের সদস্যরা জানাপদ সাইদাবাদ চৌরাস্তা থেকে গত ১১ জানুয়ারি ভোর ৫:২০ মিনিটের দিকে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে যাত্রাবাড়ি থানার মাটুয়াইল কবরস্থান রোডের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। তারা দুই ব্যক্তিকে বন্দি করে নির্যাতন চালায় এবং দুই অজ্ঞাত নারীসহ আপত্তিকর ছবি তোলা হয়।
পরে গ্যাংটি ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে ছবি ভুক্তভোগীদের আত্মীয়-স্বজন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করার হুমকি দেয়। এরপর তারা ৪৮,০০০ টাকা নগদ, দুই ভরি চাঁদের চেইন, একটি ডায়মন্ড রিং এবং এটিএম থেকে বিকাশ ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে মোট ৫,৩১,৫০০ টাকা উত্তোলন করে। পরে ভুক্তভোগীদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ি থানায় একটি সাধারণ মামলা দায়ের করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আরও একটি হানি ট্র্যাপ
আরেক ঘটনায়, আটক তুলিয়া আক্তার সুমি একজন পুরুষকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধুত্বের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে। তার অনুরোধে ১৫ ডিসেম্বর ডেমরা থানার হোসেন প্লাজার স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে সাক্ষাৎ করে। এরপর তুলিয়া তাকে তার বাড়িতে আসার প্রস্তাব দেয়। যখন পুরুষটি বাড়িতে পৌঁছে, তখন ৬–৭ অজ্ঞাত ব্যক্তির দ্বারা তাকে মারধর করা হয় এবং ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
পুরুষটি টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা হুমকি দেওয়া হয়। শেষমেশ সে ৪৮,৫০০ টাকা নগদ, দুইটি এক ভরি স্বর্ণের আংটি এবং পরিবারের মাধ্যমে বিকাশে পাঠানো ৪,৪৬,৫০০ টাকা গ্যাংকে দিতে বাধ্য হয়। পরে তাকে পুনরায় হুমকি দেওয়া হয় এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ জানুয়ারি ডেমরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
গ্যাংয়ের কার্যপদ্ধতি ও তদন্তের অগ্রগতি
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, গ্যাংটি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে টার্গেট ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলত এবং তারপর ফাঁদে ফেলে নগদ ও মূল্যবান জিনিস দাবি করত।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্যাংয়ের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















