সঙ্কটের মুখে কিউবা
কিউবা বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকটে আটকা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি তেলের ঘাটতিতে ভুগছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তেল সরবরাহ বন্ধের পর, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ক্রমশ ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাসিন্দাদের জন্য প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না ,এতে পরিবারগুলোকে নিজেদের রান্না, আলো এবং গরম পানি চালানোর জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে।
কয়লা: নিত্যদিনের চালিকা শক্তি
হাভানা শহরের সড়কের পাশে বিক্রেতারা কয়লা এবং নিজস্ব তৈরি চুলা বিক্রি করছেন। অনেক মানুষ দামের সীমাবদ্ধতার কারণে সৌর প্যানেল বা ব্যাটারির মতো আধুনিক সমাধান নিতে পারছে না। ৫৩ বছর বয়সী একটি সরকারি কর্মচারী বলেছেন, “আমাদের দেশে জ্বালানি নেই। তাই বিকল্প খুঁজে নিতে হবে।”
প্রতি ব্যাগ কয়লার দাম এখন প্রায় মাসিক বেতনের অর্ধেক। ছোট শিশু থাকা পরিবারগুলোর জন্য এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায়। অনেক Cubans বিদ্যুৎ না থাকলে চলার জন্য বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন
সৌর প্যানেল: ধনী ও মাঝারি আয়ের মানুষের সমাধান
যারা সামান্য বেশি খরচ করতে পারেন, তারা এখন সৌর প্যানেল ও লিথিয়াম ব্যাটারি স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন। হাভানার পূর্বাঞ্চলের গুয়ানাবাকোয়া এলাকায় ক্যাথলিক চার্চের পরিচালিত একটি বৃদ্ধাশ্রমে নতুন সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। এটি প্রতিবেশীদের মধ্যে উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে সৌর প্যানেল লাগানোর খরচ প্রায় ২,০০০ থেকে ৭,০০০ ডলার, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
জীবনের অচেনা বাস্তবতা
কয়লা এবং সৌর শক্তি ব্যবহার দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনধারার চিত্র তুলে ধরছে। গরীব মানুষ এখন রান্নার জন্য কাঠ বা কয়লা ব্যবহার করতে বাধ্য, আবার ধনী মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজ জীবনযাপন করছেন। ৩৬ বছর বয়সী কয়লা বিক্রেতা বলেছেন, “আমার বিক্রি কখনো এত বেশি হয়নি। মানুষ এখন তিন ব্যাগ কয়লা কিনে প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
সামাজিক প্রভাব
বিদ্যুৎ সংকট কেবল রান্না বা আলোতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পুরো জীবনের গতি ধীর করে দিয়েছে। অনেক পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার পেতে সংগ্রাম করছে। সম্প্রদায়ের বৃদ্ধ এবং দরিদ্র মানুষগুলো খাবার সংগ্রহে চুলার ধোঁয়া বা সৌর শক্তির উপর নির্ভর করছে। সংকট কিউবার প্রতিদিনের জীবন, অর্থনীতি এবং সামাজিক পরিবেশকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট বলছে, কিউবার সাধারণ মানুষ এখন একদিকে কষ্ট এবং অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তির সন্ধানে। জীবনযাত্রার ধরণ বদলে যাচ্ছে, তবে সম্ভাবনার আলো এখনও বিদ্যমান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















