১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার ও দূতাবাস বন্ধের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আবারও বাড়ল তেলের দাম তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ধার সিলেটের অপহৃত স্কুলছাত্রী, গ্রেপ্তার গৃহশিক্ষক রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি: একক ভ্যাট, হয়রানিমুক্ত ব্যবসা পরীমণির আর্জেন্টিনা প্রেম: মেসি জার্সিতে তারকাদের সিগনেচার উদযাপন অনুকরণ নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ১৫; নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগে সড়ক অবরোধ আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ব্রিটিশ বার থেকে সাময়িক বরখাস্ত অস্ট্রেলিয়ার ১৯৬ রানও থামাতে পারল না বাংলাদেশ, সিরিজ জিতে নিল সফরকারীরা একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী আর নেই মোহাম্মদপুরে কুপিয়ে জখম বিএনপি নেতা, রাজনৈতিক বিরোধের ইঙ্গিত

অনিয়মিত ঘুমে জাপানের বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন: নতুন গবেষণা সতর্ক করে দিল

জাপানে ঘুমের অনিয়ম এবং নিম্নমানের ঘুম কর্মক্ষমতা ও অর্থনীতিতে বিরাট ক্ষতি করছে, নতুন গবেষণায় জানা গেছে। সপ্তাহের কাজে ও ছুটির দিনে ঘুমের সময়ের বড় ভেদ “সোশ্যাল জেট ল্যাগ” নামে পরিচিত ওঠা‑বসা সময়ের পার্থক্য শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সাথে মিল না হলে কর্মদক্ষতা কমে যায় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি গুনতে হয়।

গবেষণার পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ
জাপানের তসুকবা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ইন্টিগ্রেটিভ স্লিপ মেডিসিন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাসাশি ইয়ানাগিসাওয়া পরিকল্পিত এই বিশাল গবেষণায় প্রায় ৮০,০০০ কর্মজীবীর ঘুম সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। পোকেমন স্লিপ অ্যাপ ব্যবহারকারী এই ব্যক্তিরা মোট প্রায় ২১ লাখ রাতের ঘুমের তথ্য দিয়েছেন এবং নিজেরাই গত চার সপ্তাহের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করেছেন। গবেষকরা দেখেছেন ঘুমের সময় যদি খুব কম বা খুব বেশি হয়, রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয়, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় এবং সপ্তাহের দিনে ও ছুটির দিনে ঘুমের সময়ে বিশাল পার্থক্য থাকে, তাহলেই কর্মক্ষমতা কমছে।

ঘুমের ধরন ও কর্মদক্ষতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গবেষকরা ঘুমের প্যাটার্নকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছেন: সুস্থঘুম, দীর্ঘ ঘুম, খণ্ডিত ঘুম, নিম্নমানের ঘুম এবং সোশ্যাল জেট ল্যাগ। এর মধ্যে নিম্নমানের ঘুম ও সোশ্যাল জেট ল্যাগ সবচেয়ে বেশি কর্মক্ষমতার পতনের সাথে যুক্ত হয়েছে। সোশ্যাল জেট ল্যাগ তখনই ঘটে যখন সপ্তাহের দিন ও ছুটির দিন ঘুমানো ও ওঠার সময় নিয়মের বাইরে থাকে, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ সময়ের সাথে দৈনন্দিন জীবনের চাহিদার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে।

A new study found a significant association between irregular sleep  schedules and diminished academic performance and increased behavioral  issues among adolescents. More than 70% of teenagers in the US get less than

দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
টানা অনিয়মিত ঘুম দৈনিক সকালে অ্যালস সহ কম মনোযোগের কারণ হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। পূর্ববর্তী গবেষণায় এটা ওজন বৃদ্ধি ও স্থুলতার সাথেও সম্পর্কিত বলে এসেছে।

অর্থনৈতিক হিসাব
গবেষকরা হিসাব করে দেখেছেন যে সোশ্যাল জেট ল্যাগে থাকা একজন ব্যক্তি প্রতি বছর প্রায় ১,৩৬,০০০ ইয়েন অর্থনৈতিক ক্ষতি ভুগেন যা সুস্থ ঘুমান মানুষের তুলনায় কম উৎপাদনশীলতার প্রতিনিধিত্ব করে। গবেষণায় দেখা গেছে মোট জনসংখ্যার ১৬% মানুষ এই অবস্থায় রয়েছে এবং সেই অনুপাতে জাপানের মোট বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের কাছাকাছি।

বিশ্বব্যাপী তুলনা ও মন্তব্য
বিদেশি গবেষণায় দেখা গেছে জাপানে ঘুমের অভাবে কর্মক্ষমতা ক্ষতি গড় জিডিপির প্রায় ৩% পর্যন্ত হতে পারে। ২০২৪ সালের একটি ওইসিডি তথ্য মতে জাপানের মানুষ দিনে গড় ৭ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ঘুমায়, যা ৩৩টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে এই গবেষণার তথ্য সাধারণ কর্মীর তুলনায় আলাদা হতে পারে এবং কর্মক্ষমতা নিজস্ব মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক ইয়ানাগিসাওয়া বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘুম পর্যবেক্ষণ ও উন্নত করলে কর্মীদের স্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা উভয়ই উন্নত হওয়ার আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি।” সারাক্ষণ রিপোর্ট।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার ও দূতাবাস বন্ধের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ

অনিয়মিত ঘুমে জাপানের বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন: নতুন গবেষণা সতর্ক করে দিল

০৩:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাপানে ঘুমের অনিয়ম এবং নিম্নমানের ঘুম কর্মক্ষমতা ও অর্থনীতিতে বিরাট ক্ষতি করছে, নতুন গবেষণায় জানা গেছে। সপ্তাহের কাজে ও ছুটির দিনে ঘুমের সময়ের বড় ভেদ “সোশ্যাল জেট ল্যাগ” নামে পরিচিত ওঠা‑বসা সময়ের পার্থক্য শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সাথে মিল না হলে কর্মদক্ষতা কমে যায় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি গুনতে হয়।

গবেষণার পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ
জাপানের তসুকবা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ইন্টিগ্রেটিভ স্লিপ মেডিসিন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাসাশি ইয়ানাগিসাওয়া পরিকল্পিত এই বিশাল গবেষণায় প্রায় ৮০,০০০ কর্মজীবীর ঘুম সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। পোকেমন স্লিপ অ্যাপ ব্যবহারকারী এই ব্যক্তিরা মোট প্রায় ২১ লাখ রাতের ঘুমের তথ্য দিয়েছেন এবং নিজেরাই গত চার সপ্তাহের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করেছেন। গবেষকরা দেখেছেন ঘুমের সময় যদি খুব কম বা খুব বেশি হয়, রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয়, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় এবং সপ্তাহের দিনে ও ছুটির দিনে ঘুমের সময়ে বিশাল পার্থক্য থাকে, তাহলেই কর্মক্ষমতা কমছে।

ঘুমের ধরন ও কর্মদক্ষতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গবেষকরা ঘুমের প্যাটার্নকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছেন: সুস্থঘুম, দীর্ঘ ঘুম, খণ্ডিত ঘুম, নিম্নমানের ঘুম এবং সোশ্যাল জেট ল্যাগ। এর মধ্যে নিম্নমানের ঘুম ও সোশ্যাল জেট ল্যাগ সবচেয়ে বেশি কর্মক্ষমতার পতনের সাথে যুক্ত হয়েছে। সোশ্যাল জেট ল্যাগ তখনই ঘটে যখন সপ্তাহের দিন ও ছুটির দিন ঘুমানো ও ওঠার সময় নিয়মের বাইরে থাকে, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ সময়ের সাথে দৈনন্দিন জীবনের চাহিদার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে।

A new study found a significant association between irregular sleep  schedules and diminished academic performance and increased behavioral  issues among adolescents. More than 70% of teenagers in the US get less than

দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
টানা অনিয়মিত ঘুম দৈনিক সকালে অ্যালস সহ কম মনোযোগের কারণ হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। পূর্ববর্তী গবেষণায় এটা ওজন বৃদ্ধি ও স্থুলতার সাথেও সম্পর্কিত বলে এসেছে।

অর্থনৈতিক হিসাব
গবেষকরা হিসাব করে দেখেছেন যে সোশ্যাল জেট ল্যাগে থাকা একজন ব্যক্তি প্রতি বছর প্রায় ১,৩৬,০০০ ইয়েন অর্থনৈতিক ক্ষতি ভুগেন যা সুস্থ ঘুমান মানুষের তুলনায় কম উৎপাদনশীলতার প্রতিনিধিত্ব করে। গবেষণায় দেখা গেছে মোট জনসংখ্যার ১৬% মানুষ এই অবস্থায় রয়েছে এবং সেই অনুপাতে জাপানের মোট বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের কাছাকাছি।

বিশ্বব্যাপী তুলনা ও মন্তব্য
বিদেশি গবেষণায় দেখা গেছে জাপানে ঘুমের অভাবে কর্মক্ষমতা ক্ষতি গড় জিডিপির প্রায় ৩% পর্যন্ত হতে পারে। ২০২৪ সালের একটি ওইসিডি তথ্য মতে জাপানের মানুষ দিনে গড় ৭ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ঘুমায়, যা ৩৩টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে এই গবেষণার তথ্য সাধারণ কর্মীর তুলনায় আলাদা হতে পারে এবং কর্মক্ষমতা নিজস্ব মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক ইয়ানাগিসাওয়া বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘুম পর্যবেক্ষণ ও উন্নত করলে কর্মীদের স্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা উভয়ই উন্নত হওয়ার আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি।” সারাক্ষণ রিপোর্ট।