দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটকদের ঢল
চীনের ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা এবং গুয়াংঝৌয়ের উষ্ণ আবহাওয়া—এই দুই কারণ মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটকদের বড় একটি অংশ এখন শহরটিতে ভিড় জমাচ্ছেন, বিশেষ করে গলফ খেলতে। ফলে ১২ বছর ধরে কাজ করা ট্রাভেল এজেন্ট কোয়ান ইউলানের ব্যস্ততা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়ে গেছে।
তিনি জানান, করোনাভাইরাস মহামারির পর ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও গত বছর কোরিয়ান বুকিং ৩০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গুয়াংঝৌভিত্তিক তাদের প্রতিষ্ঠান এ বছর আরও বেশি প্রবৃদ্ধির আশা করছে।
আগে যেখানে কোরিয়ান গলফারদের দেখা মিলত কম, এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে বলে জানান কোয়ান। তার ভাষায়, গুয়াংঝৌ চীনের বড় শহরগুলোর একটি হলেও আগে কোরিয়ান গলফার খুব একটা আসতেন না, কিন্তু এখন প্রতিদিনই তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন।

গলফ পর্যটনে কোরিয়ানদের প্রাধান্য
ভ্রমণ শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, গুয়াংঝৌয়ের গলফারদের প্রায় ৯০ শতাংশই চীনা হলেও বিদেশিদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ানদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। শহরের বেশিরভাগ গলফ-কেন্দ্রিক ট্রাভেল এজেন্সি কোরিয়ান বাজারকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়, যেখানে কোরিয়ান বংশোদ্ভূত চীনারা কাজ করেন বা প্রতিষ্ঠান চালান।
নীতিগত পরিবর্তনে বড় প্রভাব
সিউলভিত্তিক ব্লুমিং গলফ ট্যুরের প্রধান নির্বাহী লি হি-হিউন বলেন, বহু বছর ধরে কোরিয়ান গলফ পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য ছিল জাপান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। তবে ২০২৪ সালে চীন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ভিসামুক্ত নীতি চালু করার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে।
এই নীতির প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট। গুয়াংঝৌয়ের জনপ্রিয় গলফ কোর্স হলিডে আইল্যান্ডস গলফ ক্লাবে গত বছর কোরিয়ান দর্শনার্থী সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৮১ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে চীনা দর্শনার্থী বৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪.৪ শতাংশ।

গন্তব্য তালিকায় চীনের উত্থান
লি জানান, জাপান এখনও কোরিয়ান গলফারদের প্রথম পছন্দের দেশ। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গলফের ব্যয় বৃদ্ধি এবং থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে চীন এখন দ্বিতীয় জনপ্রিয় গন্তব্যে উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ব্লুমিং গলফ ট্যুরের চীনসংক্রান্ত বুকিংয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি এখন গুয়াংঝৌকেন্দ্রিক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















