চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সরকারি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন গতির দিক দিয়ে দুই দশকের মধ্যে এক দুর্বলতম পর্যায়ে পৌঁছেছে। জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বরাদ্দের মাত্র ২১.১৮ শতাংশ খরচ হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ২১.৫২ শতাংশের চেয়ে সামান্য কম।
ব্যয়ের হার এবং অতীত তুলনা
গত কয়েক বছরের তুলনায় এডিপি ব্যয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটি ২৭.১১ শতাংশ, ২০২২-২৩ এ ২৮.১৬ শতাংশ এবং ২০২১-২২ সালে ৩০.২১ শতাংশ ছিল। টাকার দিক দিয়ে এডিপি ব্যয় ৫০৫.৫৬ বিলিয়ন টাকায় থেমে গেছে, যা আগের বছরের ৫৯৮.৭৬ বিলিয়ন টাকার তুলনায় কম।

মাসিক ব্যয়ে সামান্য উন্নতি
জানুয়ারিতে মাসিক খরচ ৩.৬৪ শতাংশে এসেছে, যা গত বছরের একই মাসের ৩.৫৫ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি। তবে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরও উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়ার কোনো স্পষ্ট সংকেত নেই।
বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত
আটকে থাকা ব্যয়ের কারণে সরকার সংশোধিত এডিপি থেকে ৩০০ বিলিয়ন টাকা কমিয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ১৩.০৪ শতাংশ। জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আন্তর্বর্তীকালীন সরকার এডিপি ২.৩০ ট্রিলিয়ন টাকায় নির্ধারণ করেছিল। জানুয়ারির মধ্যে তা ২ ট্রিলিয়ন টাকায় নামানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বড় কাটছাঁট
সর্বাধিক কাটছাঁট করা হয়েছে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার খাতে। স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ৭৩ শতাংশ কমানো হয়েছে, আর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ৫৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রকল্প স্থগিত
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, কারফিউ এবং হরতাল উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে। আগের সরকারের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু ঠিকাদার কাজ থামিয়ে দিয়েছে। নতুন প্রশাসন প্রকল্প পুনঃমূল্যায়ন শুরু করায় পুরো বছর ধরে বাস্তবায়ন ধীরগতি পেয়েছে। রাজনৈতিক কারণে অনেক প্রকল্প স্থগিত থাকায় ব্যয়ের হার দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গত অর্থবছরের শেষে ২০২৪-২৫ সালে সংশোধিত এডিপির ৬৭.৮৫ শতাংশই ব্যয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম। ২০২৩-২৪ সালে এডিপি বাস্তবায়ন ছিল ৮০.৬৩ শতাংশ। ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে হিসাব করলে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন কখনো এত কম হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















