খুলনায় খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম থমকে গেছে খুলনা ফুড ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রাক্টরস এসোসিয়েশনের অসীমকালীন ধর্মঘটের কারণে। নেতারা অভিযোগ করেছেন, এক ট্রাক মালিক সিন্ডিকেটই এই সংকটের মূল কারণ।
খাদ্য ট্রান্সপোর্ট কার্যক্রম থেমে যাওয়ায় মাহেশ্বরপাশা, সিএসডি ও ৪ ও ৭ নং ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল বন্ধ এবং লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে। এ কারণে সরকারি জরুরি পরিষেবাসহ খাদ্য সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
২০০৫ সালে খাদ্য পরিবহন (রোড ডিভিশন) অধীনে প্রায় ২৭০ জন কন্ট্রাক্টর নিয়োজিত ছিলেন। এরপর নতুন কোনো টেন্ডার না হওয়ায় দুই দশক ধরে তারা সেই ২০০৫ সালের হারে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা সতর্ক করেছেন, যদি অসীমকালীন ধর্মঘট প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে জরুরি পরিষেবা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে, খুলনার প্রায় ২,৫০০ শ্রমিক কাজ হারাবেন এবং কন্ট্রাক্টর ও ব্যবসায়ীরা কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়বেন।

এসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম আজিজুর রহমান স্বপন জানিয়েছেন, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় খাদ্য বিভাগের সঙ্গে কাজ করা কন্ট্রাক্টরদের সরকারী ট্রান্সপোর্ট লাইসেন্স রয়েছে এবং তারা যে কোনো লাইসেন্সধারী ট্রান্সপোর্ট অপারেটর থেকে ট্রাক ভাড়া করতে পারেন।
তবে খুলনার মাহেশ্বরপাশা, সিএসডি এবং ৪ ও ৭ নং ঘাট এলাকায় তারা স্বাধীনভাবে ট্রাক ভাড়া করতে পারছেন না। স্বপন অভিযোগ করেছেন, “সেখানে এক ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন-সংক্রান্ত গ্রুপ ‘জয়েন্ট ট্রান্সপোর্ট’ নিয়ন্ত্রণ করে। তারা ব্যবসায়ীদের শুধু তাদের কাছে থেকে যানবাহন নিতে বাধ্য করছে। তাদের একপক্ষীয় সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, আগের সরকারের সময়ও এই সিন্ডিকেট কাজ করেছিল। ৫ আগস্টের গণউৎপ্লবের পর সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছিল, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর আবার সক্রিয় হয়েছে। এই ট্রাক মালিক সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের ব্যবসা চালানো এখন অসম্ভব হয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















