উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ইরান সম্প্রতি তার সেনাসংক্রান্ত এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মেরামত ও শক্তিশালী করছে, যা ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ঘটছে।
পচারিন মিলিটারি কমপ্লেক্সের পরিবর্তন
পচারিন মিলিটারি কমপ্লেক্স তেহরানের প্রায় ৩০ কিমি দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত এবং এটি ইরানের সবচেয়ে গোপনীয় সেনা স্থাপনার মধ্যে একটি। এখানে আগে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা সম্পর্কিত কার্যক্রম হয়েছে বলে সন্দেহ রয়েছে, যদিও তেহরান সবসময়ই পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর দাবি করে আসছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে ইসরাইলের বোমা হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের ওপর কংক্রিটের স্তর তৈরি ও মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নির্মিত স্থাপনাটিকে কংক্রিটের আবরণ দিয়ে ঢেকে ভবিষ্যতের বিমান হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পারমাণবিক স্থাপনার আগা-মুখ সমূহ দফন
ইউএস ও ইসরাইলের গত বছরের বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হওয়া ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার টানেলের আগা-মুখ মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কাজের উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে বিমান হামলা বা সামরিক অভিযান থেকে সংবেদনশীল অংশগুলোকে সুরক্ষিত রাখা।
নাটানজ এলাকায় কিছু টানেল প্রবেশ পথকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে ভারী যানবাহন ও নির্মাণ সরঞ্জাম কাজ করছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর পুনর্নির্মাণ
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিও মেরামত করা হচ্ছে। শিরাজের দক্ষিণে অবস্থিত একটি ঘাঁটিতে মূল কমান্ড ও লজিস্টিক স্থাপনার পুনর্সংস্কার লক্ষ্য করা গেছে।
কোম গ্রামের উত্তরে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ওপর নতুন ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

উত্তেজনার পটভূমি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি
এই উপগ্রহ চিত্রগুলো প্রকাশিত হচ্ছে এমন সময় যখন তেহরান ও ওয়াশিংটন পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত, কিন্তু একই সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তিতে ব্যর্থ হলে মিলিটারি পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে।
হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায় তাহলে সেটি ‘খুব বুদ্ধিমত্তার কাজ’ হবে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটন বর্তমানে আঞ্চলিক জলসীমায় ১৩টি যুদ্ধজাহাজ রেখেছে, যার মধ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী, বেশ কয়েকটি ধ্বংসকারী ও উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ রয়েছে।
যদিও ইরান বারবার বলছে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, তবে স্যাটেলাইট চিত্র ও সামরিক প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আক্রমণের প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















