পবিত্র রমজান মানেই সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারে এক গ্লাস ঠান্ডা, পুষ্টিকর পানীয়ের তৃপ্তি। সঠিক পানীয় শুধু তৃষ্ণাই মেটায় না, বরং শরীরে ফিরিয়ে আনে হারানো শক্তি ও সতেজতা। ঘরে থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায় এমন কিছু স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু পানীয়, যা ইফতারের টেবিলকে করবে আরও প্রাণবন্ত।

আদা-লেবুর শরবত: সতেজতার ঝলক
তাজা আদা ও লেবুর মিশ্রণে তৈরি এই শরবত গরমের ক্লান্তি দূর করতে দারুণ কার্যকর। প্রথমে আদা খোসা ছাড়িয়ে বেটে রস বের করে নিতে হবে। আলাদা করে লেবুর রস ছেঁকে নিতে হবে। এরপর ঠান্ডা পানির সঙ্গে আদা ও লেবুর রস মিশিয়ে স্বাদমতো মধু যোগ করলে তৈরি হয়ে যাবে ঝাঁঝালো ও টক-মিষ্টি স্বাদের এক অনন্য পানীয়। ইচ্ছা করলে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করা যায়।

গাজর-আদার পুষ্টি পানীয়
গাজরের প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব আর আদার হালকা ঝাঁঝ একসঙ্গে শরীরকে দেয় শক্তি ও সুরক্ষা। আদা হালকা গরম পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে নিতে হয়। এরপর কাটা গাজর, কমলার রস ও সামান্য মধুর সঙ্গে সেই আদা মেশানো পানি ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হয় পুষ্টিতে ভরপুর পানীয়। ইফতারে এটি শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করে তোলে।
লেবু-ডালিমের টক-মিষ্টি রস
ডালিমের দানা ব্লেন্ড করে ছেঁকে নেওয়া রসের সঙ্গে লেবুর রস ও ঠান্ডা পানি মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয় দারুণ স্বাদের পানীয়। স্বাদমতো মধু যোগ করলে টক ও মিষ্টির ভারসাম্য ঠিক থাকে। এই পানীয় রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়ক এবং রোজার পর শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়।

বিট-গাজরের মসৃণ পানীয়
বিট ও গাজর ছোট টুকরো করে দুধের সঙ্গে ব্লেন্ড করে নিতে হয়। পরে প্রয়োজনমতো পানি মিশিয়ে আবার ব্লেন্ড করলে তৈরি হয় ঘন ও মসৃণ পানীয়। এটি শক্তি বাড়াতে সহায়ক এবং ইফতারে ভিন্ন স্বাদ এনে দেয়।
লেবুজাতীয় ফলের সতেজ মিশ্রণ
বাতাবি লেবু, কমলা ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যায়। স্বাদ বেশি টক মনে হলে সামান্য পানি যোগ করা যেতে পারে। উপর থেকে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিলে বাড়ে সুগন্ধ ও সতেজতা। এই পানীয় ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস।

মিষ্টি তেঁতুলের শরবত
মিষ্টি তেঁতুল কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে শাঁস ছেঁকে নিতে হয়। সেই রসে চিনি মিশিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে ঠান্ডা করে পরিবেশন করলে তৈরি হয় পরিচিত স্বাদের তেঁতুলের শরবত। চাইলে লেবুর রস বা গোলাপজল যোগ করে স্বাদ বাড়ানো যায়।

ইফতারে স্বাস্থ্যকর পানীয় কেন জরুরি
রোজার পর শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই ইফতারে এমন পানীয় বেছে নেওয়া দরকার, যা একই সঙ্গে শক্তি, পুষ্টি ও স্বস্তি দেয়। প্রাকৃতিক ফল ও মসলার সমন্বয়ে তৈরি এই পানীয়গুলো শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং ক্লান্তি দূর করে দ্রুত কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনে।
রমজানের ইফতারে ঘরেই তৈরি এসব স্বাস্থ্যকর পানীয় হতে পারে পরিবারের সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। সহজ প্রস্তুতি আর প্রাকৃতিক স্বাদ—দুই মিলিয়ে এগুলোই হতে পারে আপনার ইফতারের সেরা সঙ্গী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















