ওয়াশিংটন থেকে সারাক্ষণ রিপোর্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠিন অবস্থান আরও জোরদার করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে “গুরুত্বপূর্ণ” কোনো চুক্তি না হলে দেশটি “ভয়ানক” পরিণতির মুখে পড়বে। এই সতর্কবার্তার পর ইরান জানিয়েছে, কোনো সামরিক আগ্রাসনের মুখে পড়লে সে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেবে।
ট্রাম্পের শক্ত ভাষা ও সময়সীমা
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ভালো দিকে এগুচ্ছে, কিন্তু তেহরানকে অবশ্যই “গুরুত্বপূর্ণ” সমঝোতায় পৌঁছতে হবে। তিনি বলেছেন, অন্যথায় খুব খারাপ ফল ঘটবে এবং সময়সীমা হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ দিন দিতে চান। বিমানে সাংবাদিকদের কাছে তিনি পুনরায় বলেছেন, ইরান যদি সমাধানে না আসে, যুক্তরাষ্ট্রকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া ও আত্মরক্ষার ঘোষণা
ইরানের তেহরান সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধ শুরু করবে না, তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারা “সঙ্গতিপূর্ণ ও প্রবল” প্রতিক্রিয়া দেবে। দেশটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সকল আমেরিকান আস্থাপনা ও শক্তি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তার ব্যবস্থা অনুযায়ী ফল ভোগ করতে হবে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে মোতায়েন হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে, যা একটি বড় যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পারমাণবিক স্থাপনাসহ ইরানের কিছু সামরিক স্থানের উপর বোমা বৃষ্টি করেছিল, এবং সেই থেকেই দু’দেশের সম্পর্ক তীব্র অবনতি ঘটে।
ইরান ও রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া চলমান, বিশেষ করে ওমান সাগর অঞ্চলে যা বিশ্বের শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। উত্তেজনার মধ্যেই পোল্যান্ডসহ কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের তেহরান থেকে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।
আলোচনা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ট্রাম্প ইরানকে বলেছেন, নৌকায় অস্ত্র রাখার সুযোগ নেই এবং তিনি বলছেন, “ইউরোপে শান্তি ফেরাতে হলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত থাকতে হবে।” ইরান বলছে, তার কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তারা দীর্ঘশ্রেণীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য বিষয় আলোচনা করতে রাজি নয়, যা তাদের “লাল রেখা” বলে অভিহিত করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই পক্ষের এই শঙ্কার মধ্যেই বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়েছে এবং উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















