যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু দেশজুড়ে তৎক্ষণাত আরোপিত শুল্ক আইনগতভাবে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে, ফলে তার এককভাবে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। আদালতের এই রায়ের আগে তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট বা আইইইপিএ-র আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা সর্বোচ্চ আদালত অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে। এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে।
ট্রাম্পের ঘোরপাক্কার সিদ্ধান্ত
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বিশ্বজুড়ে সকল আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, এবং পরের দিন তা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, এটি কার্যকর করা হবে ১৯৭৪ সালের ট্রেড আইন অনুযায়ী, যা ১৫০ দিনের জন্য প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। যদিও আদালত তার আগের ক্ষমতাটি বাতিল করেছে, তবুও তিনি ভিন্ন আইনের আওতায় শুল্ক নীতি চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিশ্ব বাণিজ্য ও বাণিজ্য অংশীদারদের অনিশ্চয়তা
বিশ্ব মাধ্যম এবং বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কৌশলকে দুর্বল করেছে। তার শুল্ক হুমকির হাতিয়ার সীমাবদ্ধ থাকায় বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো এখন বিস্তৃত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদিও ট্রাম্প নতুন কিছু শুল্ক আরোপ করতে পারেন, তবুও তার আগের মতো অপ্রত্যাশিত এবং অবাধ ক্ষমতা আর নেই।
আমদানিকারক ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিক্রিয়া
আইনি বিশ্লেষকরা জানান, আদালতের রায়ের ফলে আমদানিকারকদের পক্ষে শুল্ক ফেরত পাওয়ার বিষয়টি জটিল হতে পারে এবং বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে এই খবরের প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা গেছে। শেয়ার বাজার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে যদিও অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রভাব
বাংলাদেশসহ অন্যান্য রপ্তানিকারী দেশগুলো এই পরিবর্তনের ফলে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করতে পারে, বিশেষ করে পোশাক খাতের বিশ্লেষকরা মনে করেন ট্রাম্পের আগের অনিশ্চয়তা কমে রপ্তানি বিচারে কিছু সুবিধা আসতে পারে। তবে নতুন শুল্ক ও বাণিজ্য নীতির ভিত্তি এখনো সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















