জাপানের কর্পোরেট দুনিয়ায় নতুন এক ধারা দেখা দিয়েছে যেখানে প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা বা সিএফওরাই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও হতে চলেছেন। এপ্রিল থেকে টয়োটা কোম্পানির কেন্টা কন সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সোনি গ্রুপের বর্তমান ও সাবেক সিইওরাও সিএফও থেকে উঠে আসেন। নিকন, আসাহী গ্রুপ হোল্ডিংস ও ডাইইচি সানকিওর মতো বড় কোম্পানির প্রেসিডেন্টরাও সাবেক সিএফও।
সিএফওর দায়িত্ব ও নেতৃত্বের বিস্তার
গত দশকে জাপানের কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড প্রবর্তনের ফলে কোম্পানিগুলোকে মূলধন ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের ফলপ্রসূতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও শেয়ারের মান উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে হয়েছে। ওয়াসেদা বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক জুসুকে ইকেগামি বলেন, “তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য সিএফওর আর্থিক ভাষায় দক্ষতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। মূলধন দক্ষতা, ঝুঁকি বরাদ্দ এবং বাজার-সম্পর্কিত প্রশ্নে কার্যকর যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আগে জাপানের সিএফওরা শুধুমাত্র হিসাব-নিকাশ দেখতেন, এখন তাদের কাজের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। তারা শুধু আর্থিক ব্যবস্থাপনা নয়, বরং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন বরাদ্দ, ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণ, পরিচালনাগত পরিবর্তন, কর্পোরেট রূপান্তর, নতুন উদ্যোগ ও উদ্ভাবন, এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষমতা তৈরি করার দায়িত্বও পালন করেন। পিডাব্লিউসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, “সিএফওরা এখন প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিরোধক্ষমতার মূল স্তম্ভ। তারা সাহসী রূপান্তর এবং স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব প্রদান করছেন।”
ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জে সিএফওর নেতৃত্ব
টয়োটার কন ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জের আলোচনায় বলেছেন, “সম্প্রতি ব্রেক-ইভেন ইউনিট বিক্রির মাত্রা কিছুটা বেড়েছে। কঠিন ব্যবসায়িক পরিবেশেও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য।” ইকেগামি বলেন, সিএফওদের নেতৃত্বে সংস্থার মনোযোগ প্রায়শই স্বল্পমেয়াদি মুনাফা ও ঝুঁকি এড়াতে থাকে, যা গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। টয়োটা এই ঝুঁকি কমাতে সাবেক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডধারী সিইও কোজি সাতোকে ভাইস চেয়ারম্যান রেখেছে, যাতে গবেষণা, উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন শক্তিশালী থাকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















