ঢাকা, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতি রাজধানীর মধ্যে একটি, মঙ্গলবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে আসে। সকাল ৯:২৬ মিনিটে এ শহরের বায়ুর মান সূচক (একিউআই) দাঁড়ায় ২১৩, যা “অত্যন্ত দূষিত” হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আজকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসের মান মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর, এবং মিয়ানমারের ইয়াঙ্গন যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে, এদের একিউআই মান ছিল যথাক্রমে ২৪৪, ২৪৩, এবং ২২১।

এনভায়রনমেন্ট এক্সপার্টদের মতে, ৫০–১০০ একিউআই মানকে ‘মোডারেট’ ধরা হয়, যা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা এ অবস্থায় সীমিত করা উচিত। ১০১–১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর’, ১৫১–২০০ ‘ক্ষতিকর’, ২০১–৩০০ ‘অত্যন্ত ক্ষতিকর’ এবং ৩০১ এর ওপরে মানকে ‘বিপজ্জনক’ ধরা হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে এ সূচক নির্ধারণ করা হয় প্রধান পাঁচটি দূষক উপাদানের উপর: পার্টিকুলেট ম্যাটার (PM10 ও PM2.5), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO2), কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2) এবং ওজোন। একিউআই প্রতিবেদন দৈনিকভাবে বায়ুর মান জানায় এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে।

ঢাকার বায়ু দূষণ নতুন নয়। শীতকালে সাধারণত দূষণের মাত্রা বাড়ে, বর্ষাকালে তা কিছুটা কমে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুমান করে যে, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষ বায়ু দূষণের কারণে মারা যায়, প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসনালী সংক্রমণের কারণে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















