০৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বরিশালে আওয়ামী লীগের হঠাৎ মিছিল, মুখ ঢেকে স্লোগান আইএমএফের কিস্তি আটকে কেন, বাংলাদেশের সামনে এখন কোন পথ রাশেদ প্রধানের বাসভবনে হামলা নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ রাষ্ট্রের স্বার্থেই সচেতন মানুষকে ১৭ এপ্রিল স্মরণ করতে হবে নাটোরে পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া হাম আতঙ্কে দেশ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২১১ মানিকগঞ্জে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার ঘিরে গণপিটুনি, দুই ভাই নিহত ঝিনাইদহে চায়ের বাকি টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০ দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার আভাস, কিছু অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে রংপুরে তীব্র জ্বালানি সংকট: ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে থেকেও মিলছে না তেল, বিপাকে চালকরা

প্রাচীন চীনা মানচিত্রে বিশ্ব ইতিহাসের নতুন পাঠ: ইউরোপকেন্দ্রিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ

প্রাচীন একটি চীনা বিশ্বমানচিত্র ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এনেছেন গবেষক ও লেখক শেং-ওয়েই ওয়াং। তাঁর মতে, ইউরোপীয় আবিষ্কার যুগের আগেই চীন বিশ্বকে অন্বেষণ ও মানচিত্রে তুলে ধরেছিল। এই ধারণা শুধু ইতিহাসের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং আধুনিক বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

কেন সন্দেহ তৈরি হয়েছিল?

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা অভিযানের পরই ইউরোপীয় আবিষ্কার যুগ শুরু হয়। কিন্তু ওয়াং লক্ষ্য করেন, সেই সময় বা তারও আগে তৈরি অনেক ইউরোপীয় মানচিত্রে এমন সব স্থানের চিত্র রয়েছে, যেগুলো তখনো ইউরোপীয়দের দ্বারা অন্বেষিত হয়নি।

এখানেই প্রশ্ন উঠে—মানচিত্রে এমন তথ্য এল কোথা থেকে?

মানচিত্রের সীমাবদ্ধতা ও রহস্য

সাধারণভাবে একটি মানচিত্র সেই সময়ের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারে না। অথচ ইউরোপীয় কিছু মানচিত্রে ভবিষ্যৎ জ্ঞানের মতো তথ্য পাওয়া যায়, যা গবেষকদের কাছে এখনো এক অমীমাংসিত রহস্য।

Printed in Beijing in 1602, the Kunyu Wanguo Quantu is a world map created by Italian priest Matteo Ricci in collaboration with Chinese scholars. Photo: Handout

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক দিকটি প্রমাণ করে যে ইউরোপীয়রা হয়তো অন্য কোনো উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিল, যার ব্যাখ্যা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

চীনের সামুদ্রিক শক্তির প্রশ্ন

ইউরোপকেন্দ্রিক ইতিহাসে মূলত ইউরোপীয় সমুদ্রশক্তির কথাই বলা হয়। কিন্তু ওয়াং প্রশ্ন তুলেছেন—তাহলে চীনের ভূমিকা কোথায়?

কলম্বাসের আগের সময়ে, অর্থাৎ প্রাক-ইউরোপীয় যুগে, চীন ছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামুদ্রিক শক্তি। এ বিষয়ে শুধু চীনা নয়, অনেক পশ্চিমা গবেষকের লেখাতেও চীনের সামুদ্রিক দক্ষতা ও প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায়।

১৬০২ সালের ঐতিহাসিক মানচিত্র

১৬০২ সালে বেইজিংয়ে মুদ্রিত ‘কুনইউ ওয়ানগুও ছুয়ান্তু’ নামের একটি বিশ্বমানচিত্র এই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ইতালীয় ধর্মযাজক মাত্তেও রিচি এবং চীনা পণ্ডিতদের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই মানচিত্রে বিশ্বের বিস্তৃত ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, যা সে সময়ের জ্ঞান ও যোগাযোগের গভীরতা নির্দেশ করে।

Complete Map of the Nine Border Towns of the Great Ming and of the Human  Presence

ইতিহাসের নতুন পুনর্বিবেচনা

ওয়াংয়ের গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, বিশ্ব ইতিহাসের যে বর্ণনা আমরা জানি, তা মূলত ইউরোপকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে গড়ে উঠেছে। উপনিবেশবাদ এবং পশ্চিমা প্রভাব ইতিহাসের অনেক দিককে আড়াল করেছে।

এই নতুন বিশ্লেষণ তাই শুধু অতীত নয়, বর্তমান বৈশ্বিক শক্তির কাঠামোকেও নতুনভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বরিশালে আওয়ামী লীগের হঠাৎ মিছিল, মুখ ঢেকে স্লোগান

প্রাচীন চীনা মানচিত্রে বিশ্ব ইতিহাসের নতুন পাঠ: ইউরোপকেন্দ্রিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ

০৬:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রাচীন একটি চীনা বিশ্বমানচিত্র ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এনেছেন গবেষক ও লেখক শেং-ওয়েই ওয়াং। তাঁর মতে, ইউরোপীয় আবিষ্কার যুগের আগেই চীন বিশ্বকে অন্বেষণ ও মানচিত্রে তুলে ধরেছিল। এই ধারণা শুধু ইতিহাসের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং আধুনিক বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

কেন সন্দেহ তৈরি হয়েছিল?

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা অভিযানের পরই ইউরোপীয় আবিষ্কার যুগ শুরু হয়। কিন্তু ওয়াং লক্ষ্য করেন, সেই সময় বা তারও আগে তৈরি অনেক ইউরোপীয় মানচিত্রে এমন সব স্থানের চিত্র রয়েছে, যেগুলো তখনো ইউরোপীয়দের দ্বারা অন্বেষিত হয়নি।

এখানেই প্রশ্ন উঠে—মানচিত্রে এমন তথ্য এল কোথা থেকে?

মানচিত্রের সীমাবদ্ধতা ও রহস্য

সাধারণভাবে একটি মানচিত্র সেই সময়ের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারে না। অথচ ইউরোপীয় কিছু মানচিত্রে ভবিষ্যৎ জ্ঞানের মতো তথ্য পাওয়া যায়, যা গবেষকদের কাছে এখনো এক অমীমাংসিত রহস্য।

Printed in Beijing in 1602, the Kunyu Wanguo Quantu is a world map created by Italian priest Matteo Ricci in collaboration with Chinese scholars. Photo: Handout

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক দিকটি প্রমাণ করে যে ইউরোপীয়রা হয়তো অন্য কোনো উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিল, যার ব্যাখ্যা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

চীনের সামুদ্রিক শক্তির প্রশ্ন

ইউরোপকেন্দ্রিক ইতিহাসে মূলত ইউরোপীয় সমুদ্রশক্তির কথাই বলা হয়। কিন্তু ওয়াং প্রশ্ন তুলেছেন—তাহলে চীনের ভূমিকা কোথায়?

কলম্বাসের আগের সময়ে, অর্থাৎ প্রাক-ইউরোপীয় যুগে, চীন ছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামুদ্রিক শক্তি। এ বিষয়ে শুধু চীনা নয়, অনেক পশ্চিমা গবেষকের লেখাতেও চীনের সামুদ্রিক দক্ষতা ও প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায়।

১৬০২ সালের ঐতিহাসিক মানচিত্র

১৬০২ সালে বেইজিংয়ে মুদ্রিত ‘কুনইউ ওয়ানগুও ছুয়ান্তু’ নামের একটি বিশ্বমানচিত্র এই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ইতালীয় ধর্মযাজক মাত্তেও রিচি এবং চীনা পণ্ডিতদের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই মানচিত্রে বিশ্বের বিস্তৃত ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, যা সে সময়ের জ্ঞান ও যোগাযোগের গভীরতা নির্দেশ করে।

Complete Map of the Nine Border Towns of the Great Ming and of the Human  Presence

ইতিহাসের নতুন পুনর্বিবেচনা

ওয়াংয়ের গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, বিশ্ব ইতিহাসের যে বর্ণনা আমরা জানি, তা মূলত ইউরোপকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে গড়ে উঠেছে। উপনিবেশবাদ এবং পশ্চিমা প্রভাব ইতিহাসের অনেক দিককে আড়াল করেছে।

এই নতুন বিশ্লেষণ তাই শুধু অতীত নয়, বর্তমান বৈশ্বিক শক্তির কাঠামোকেও নতুনভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করছে।