রংপুর জেলাজুড়ে হঠাৎ করেই তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জেলাজুড়ে বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
জ্বালানির অভাবে অচল দৈনন্দিন জীবন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর শহরসহ জেলার আটটি উপজেলায় প্রায় ৩৫০টি পেট্রোল পাম্প থাকলেও এর অর্ধেকের বেশি নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না। অনেক পাম্পেই ঝুলছে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড। যেসব পাম্পে সীমিত আকারে সরবরাহ চলছে, সেখানেও একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মিলছে না জ্বালানি

মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া উপজেলায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাননি। এতে করে জরুরি কাজ ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে অফিসগামী, ব্যবসায়ী এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চালকদের ক্ষোভ ও দুর্ভোগ
ভুক্তভোগী এক মোটরসাইকেল চালক জানান, সকালে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও পাম্পে গিয়ে শুনতে হয়েছে তেল শেষ হয়ে গেছে। এরপর অন্য পাম্পে খোঁজ নিতে বাধ্য হন তিনি। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরাও।
সরবরাহ কমে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
পেট্রোল পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিটি পাম্পে বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে বাধ্য হয়ে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি করতে হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব
কর্তৃপক্ষের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে এই সংকটে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন বলেও জানানো হয়েছে।
রংপুরে জ্বালানি সংকটের এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে জনজীবনে আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















