কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাত চায় না। তবে পরিস্থিতি সেই দিকে গড়ালে প্রতিরোধে নামতে কিউবা প্রস্তুত রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জনসভায় দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে দুই দেশের উত্তেজনার মাত্রা তুলে ধরেছে।
সংকটের সময়, প্রস্তুতির বার্তা
হাভানায় এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিয়াজ-কানেল বলেন, বর্তমান সময় অত্যন্ত কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি ১৯৬১ সালের ১৬ এপ্রিলের ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, তখন যেমন কিউবাকে হুমকির মুখে প্রস্তুত থাকতে হয়েছিল, এখনো তেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দেশটি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিউবা যুদ্ধ চায় না। কিন্তু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকা জরুরি। তাঁর ভাষায়, এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুতি দরকার, আর যদি তা অনিবার্য হয়ে ওঠে, তাহলে তা মোকাবিলা করাই হবে দায়িত্ব।

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকট
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এই অবরোধ দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনাকেও বাড়িয়ে তুলছে।
বিপ্লবের স্মরণে রাজনৈতিক বার্তা
সমাবেশটি ছিল কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত। সেখানে সাধারণ মানুষ প্রয়াত নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও তাঁর ভাইয়ের ছবি নিয়ে অংশ নেন। এই আয়োজন শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করারও একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের ইঙ্গিত, নতুন অনিশ্চয়তা
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হলে তাঁর প্রশাসনের নজর কিউবার দিকে যেতে পারে। এই মন্তব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, কিউবার বর্তমান অবস্থান দ্বিমুখী—একদিকে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা, অন্যদিকে সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই অবস্থান নতুন করে কৌশলগত ভারসাম্যের প্রশ্ন তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















