০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

কিউবার প্রেসিডেন্টের সতর্ক বার্তা: যুদ্ধ চায় না হাভানা, কিন্তু হামলা হলে প্রতিরোধে প্রস্তুত

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাত চায় না। তবে পরিস্থিতি সেই দিকে গড়ালে প্রতিরোধে নামতে কিউবা প্রস্তুত রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জনসভায় দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে দুই দেশের উত্তেজনার মাত্রা তুলে ধরেছে।

সংকটের সময়, প্রস্তুতির বার্তা

হাভানায় এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিয়াজ-কানেল বলেন, বর্তমান সময় অত্যন্ত কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি ১৯৬১ সালের ১৬ এপ্রিলের ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, তখন যেমন কিউবাকে হুমকির মুখে প্রস্তুত থাকতে হয়েছিল, এখনো তেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দেশটি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিউবা যুদ্ধ চায় না। কিন্তু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকা জরুরি। তাঁর ভাষায়, এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুতি দরকার, আর যদি তা অনিবার্য হয়ে ওঠে, তাহলে তা মোকাবিলা করাই হবে দায়িত্ব।

US-Cuba tensions on the rise five years after historic thaw

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকট

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

এই অবরোধ দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনাকেও বাড়িয়ে তুলছে।

বিপ্লবের স্মরণে রাজনৈতিক বার্তা

সমাবেশটি ছিল কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত। সেখানে সাধারণ মানুষ প্রয়াত নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও তাঁর ভাইয়ের ছবি নিয়ে অংশ নেন। এই আয়োজন শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করারও একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনা কবে, জানালেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের ইঙ্গিত, নতুন অনিশ্চয়তা

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হলে তাঁর প্রশাসনের নজর কিউবার দিকে যেতে পারে। এই মন্তব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, কিউবার বর্তমান অবস্থান দ্বিমুখী—একদিকে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা, অন্যদিকে সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই অবস্থান নতুন করে কৌশলগত ভারসাম্যের প্রশ্ন তুলছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

কিউবার প্রেসিডেন্টের সতর্ক বার্তা: যুদ্ধ চায় না হাভানা, কিন্তু হামলা হলে প্রতিরোধে প্রস্তুত

০৭:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাত চায় না। তবে পরিস্থিতি সেই দিকে গড়ালে প্রতিরোধে নামতে কিউবা প্রস্তুত রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জনসভায় দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে দুই দেশের উত্তেজনার মাত্রা তুলে ধরেছে।

সংকটের সময়, প্রস্তুতির বার্তা

হাভানায় এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিয়াজ-কানেল বলেন, বর্তমান সময় অত্যন্ত কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি ১৯৬১ সালের ১৬ এপ্রিলের ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, তখন যেমন কিউবাকে হুমকির মুখে প্রস্তুত থাকতে হয়েছিল, এখনো তেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দেশটি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিউবা যুদ্ধ চায় না। কিন্তু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকা জরুরি। তাঁর ভাষায়, এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুতি দরকার, আর যদি তা অনিবার্য হয়ে ওঠে, তাহলে তা মোকাবিলা করাই হবে দায়িত্ব।

US-Cuba tensions on the rise five years after historic thaw

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকট

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

এই অবরোধ দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনাকেও বাড়িয়ে তুলছে।

বিপ্লবের স্মরণে রাজনৈতিক বার্তা

সমাবেশটি ছিল কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত। সেখানে সাধারণ মানুষ প্রয়াত নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও তাঁর ভাইয়ের ছবি নিয়ে অংশ নেন। এই আয়োজন শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করারও একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনা কবে, জানালেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের ইঙ্গিত, নতুন অনিশ্চয়তা

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হলে তাঁর প্রশাসনের নজর কিউবার দিকে যেতে পারে। এই মন্তব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, কিউবার বর্তমান অবস্থান দ্বিমুখী—একদিকে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা, অন্যদিকে সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই অবস্থান নতুন করে কৌশলগত ভারসাম্যের প্রশ্ন তুলছে।