যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে কি স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানিগুলো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তা নিয়েও প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে এমন আলোচনার পরিবেশ বিরল, যেখানে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর ও ডেমোক্রেট শাসিত কিছু রাজ্য একসাথে স্বাস্থ্য বীমায় এআই ব্যবহারের রীতিনীতি নিয়ে বিরোধীদলীয় মত প্রকাশ করছে। এই বিতর্কে সৃষ্ট উত্তাপ শুধু স্বাস্থ্য খাত নয় রাজনীতিক মতানৈক্যকেও ছেচে দিচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি ও এআই নীতি
রাষ্ট্রপতি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন যাতে বলা হয়েছে প্রযুক্তিগত “উন্নয়ন প্রতিযোগিতায়” জয়ী হতে হলে এআই‑কে কম বিধিনিষেধে ছেড়ে দিতে হবে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয় যে রাজ্য পর্যায়ে কঠোর নিয়ম আরোপ করে উন্নয়ন ঠেকানো ঠিক হবে না। এর প্রেক্ষিতে অনেক রাজ্য এই প্রযুক্তির উপর কঠোর নিয়ম করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত বছর অ্যারিজোনা, মারিল্যান্ড, নেব্রাস্কা ও টেক্সাসের মতো রাজ্যগুলো স্বাস্থ্য বীমা ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে এবং এর আগে ইলিনয় ও ক্যালিফোর্নিয়াও একই ধরণের আইন এনেছে।

রাজ্যগুলোর প্রতিক্রিয়া
রাইডো আইল্যান্ডে আইনপ্রণেতারা আবারও একটি বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। উত্তর ক্যারোলিনায় এমন একটি প্রস্তাব হয়েছিল যাতে বীমা কোম্পানিগুলোকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কেবল এআই‑কে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়।
এদিকে ফ্লোরিডার গভর্নর একটি এআই অধিকার বিল ঘোষণা করেছেন, যেখানে বীমা দাবি প্রক্রিয়া ও অ্যালগরিদম পরিদর্শন সম্পর্কিত বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেছিলেন নতুন প্রযুক্তি উন্নয়ন করার সময় তা নৈতিক ও ন্যায্য হওয়া উচিত এবং আমেরিকান মূল্যবোধকে সমর্থন করতে হবে।
জনমানসের উদ্বেগ ও চিকিৎসকের দাবি
পোল জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আশংকিত। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে ভোটারদের শতকে প্রায় বিশটি অতিরিক্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে এই প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবা খাতে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যবহৃত হচ্ছে। আরেকটি জরিপে prior authorization বা পূর্ব অনুমোদন বিষয়ক অস্বস্তি প্রকাশ করেছে অনেক রোগী ও চিকিৎসক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে বীমা কোম্পানিগুলো অ্যালগরিদমের মাধ্যমে দ্রুত দাবি অস্বীকার করছে, যেখানে একটি ডাক্তারি পর্যালোচনার অনুমান কম।

বীমা কোম্পানিগুলোর অবস্থান
বীমা কোম্পানিগুলো এআই‑কে সবসময় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জড়িত নয় বলে দাবি করছে। একাধিক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন তারা অভিযোগ প্রত্যাখ্যানের জন্য সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না এবং দাবির প্রক্রিয়াকরণ আরও দ্রুত ও দক্ষ করার চেষ্টা করছে। এআই‑কে ক্ষুদ্র সহযোগী হিসেবে উপস্থাপন করতে তাদের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।
আইন শাস্ত্রের দিক থেকে চাপ
আইন পেশার বিশ্লেষকরা মনে করেন রাজ্য পর্যায়ে শুধুমাত্র মানুষের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার মতো আইনগুলো দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করছে না। অনেক ক্ষেত্রেই কমপক্ষে একটি মানুষের পর্যালোচনা নিশ্চিত করা হয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট কী না তা বলা কঠিন।

কেন্দ্র ও রাজ্যের দ্বন্দ্ব
যদিও কিছু রাজ্য আইন প্রণয়ন করেছে, একটি বড় প্রশ্ন হল এই আইনগুলো কতটা কার্যকর হবে। স্ব-বীমাকারিত পরিকল্পনাগুলি যারা অনেক নিয়োগকর্তা ব্যবহার করেন, সেগুলো নিয়ে কেবল ফেডারেল সরকারই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এদিকে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে অত্যধিক বিধিনিষেধ নিয়ন্ত্রণ বোঝা সৃষ্টি করছে এবং রোগী সেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে সময় নষ্ট করছে।
শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্য বীমা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনি দ্বন্দ্ব ক্রমেই গভীর হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে এটা নিয়ে আরো নানা দিক থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















