ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে বৈরুতে নিজেদের দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান–মার্কিন পরমাণু আলোচনার টানাপোড়েনের মধ্যেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিশ্বশক্তির চাপের কাছে তেহরান মাথা নত করবে না। আর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সীমিত হামলার ইঙ্গিত ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ভারতীয়দের জরুরি সতর্কতা
তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস এক বার্তায় জানিয়েছে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সেখানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের বাণিজ্যিক উড়ানসহ যেকোনও পরিবহণ ব্যবস্থায় দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, সাধারণত ইরানে প্রায় দশ হাজার ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন। দূতাবাস সবাইকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার, বিক্ষোভ বা সমাবেশ এড়িয়ে চলার এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বৈরুতে মার্কিন পদক্ষেপ
এই অস্থিরতার মধ্যেই বৈরুতে মার্কিন দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের মূল কার্যক্রম চালু থাকবে এবং প্রয়োজনীয় কর্মীরা দায়িত্বে থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। এটি সাময়িক পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, কয়েক ডজন দূতাবাস কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য বৈরুত ছেড়েছেন।
তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি
ইরান জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনও হামলা, তা সীমিত হলেও, আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, আগ্রাসনের জবাব তীব্র ও কঠোরভাবেই দেওয়া হবে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনায় বসতে চলেছে দুই পক্ষ। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া একটি নতুন সুযোগের জানালা খুলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে তার প্রভাব একটি দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা অঞ্চলেই সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সম্ভাব্য আঞ্চলিক অস্থিরতা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–মার্কিন উত্তেজনা নতুন করে সামরিক সংঘাতে রূপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন আবারও বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
এ অবস্থায় ভারতসহ একাধিক দেশ নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পরবর্তী কয়েক দিন পরিস্থিতির দিকনির্দেশ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















