০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ব্রিষ্টির মরদেহ দেশে ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প নয়, দীর্ঘ অস্থিরতার নতুন অধ্যায় ভয় নয়, সতর্কতার সময়: হান্টাভাইরাস আতঙ্ক আমাদের কী শেখাচ্ছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট: যে আর্থিক উপহার কোটি শিশুর নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পাকিস্তান পেল ১৩২ কোটি ডলার, আইএমএফ বোর্ডের অনুমোদন প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় পাকিস্তানি অভিনেত্রী উশনা শাহ পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছর পর মমতার পতন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনে বিজয়ের অঙ্ক মিলছে না, রাজ্যপালের দরজায় তৃতীয় দফা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মন্ত্রিসভায় জঙ্গলমহলের আদিবাসী নেতা ক্ষুদিরাম টুডু বিএসএফের গুলিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে কলেজছাত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত

ঘুমের জন্য সাপ্লিমেন্টে ভরসা বাড়ছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

ঘুম না আসার সমস্যায় অনেকেই এখন সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধের দিকে ঝুঁকছেন, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এগুলোকে ‘ম্যাজিক সমাধান’ ভাবা ঠিক নয়।

নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতি আটজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন নিয়মিত ঘুমের জন্য কোনো না কোনো সহায়ক উপাদান ব্যবহার করছেন। এতে ম্যাগনেসিয়াম, মেলাটোনিন কিংবা সিবিডি জাতীয় পণ্য অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে আরেকটি তথ্য বলছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম পাচ্ছেন না।

কেন বাড়ছে সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ, অনিয়মিত রুটিন এবং মানসিক উদ্বেগের কারণে ঘুমের সমস্যা বাড়ছে। অনেকেই দ্রুত সমাধানের আশায় সাপ্লিমেন্টের দিকে ঝুঁকছেন। তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এগুলো সমস্যার মূল কারণ দূর করে না, বরং সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি ঘুমের সমস্যায় ভোগেন এবং তারাই বেশি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যবহার বাড়লেও তরুণদের মধ্যে সিবিডি বা গাঁজা-জাতীয় পণ্যের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি।

ম্যাগনেসিয়াম ও মেলাটোনিন নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ম্যাগনেসিয়াম নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ প্রচারণা থাকলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রমাণ সীমিত। কিছু ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যাদের পেশির টান, খিঁচুনি বা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম আছে। তবে সব ধরনের ম্যাগনেসিয়াম সমানভাবে উপযোগী নয়, কিছু ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে।

অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আইসিইউতে এমপি আয়েনের স্ত্রী

অন্যদিকে, মেলাটোনিন শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের হরমোন হলেও সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এর কার্যকারিতা সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি সামান্য সময়ের জন্য ঘুম আসতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এটি প্লাসিবোর মতোই কাজ করে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকি
ঘুমের জন্য ব্যবহৃত কিছু ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধে অ্যান্টিহিস্টামিন থাকে, যা কিছু মানুষের ঘুম আনতে সাহায্য করলেও পরদিন ক্লান্তি বা ঝিমুনি তৈরি করতে পারে। এসব ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারেও ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মূল কারণ শনাক্ত করাই গুরুত্বপূর্ণ
চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় ঘুমের সমস্যার পেছনে থাকে স্লিপ অ্যাপনিয়া, উদ্বেগ, কিংবা অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। আবার কিছু ওষুধও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়াই জরুরি।

জীবনযাত্রার প্রভাব
ঘুমের ওপর দৈনন্দিন অভ্যাসের প্রভাবও বড়। অতিরিক্ত কাজের চাপ, রাতে দেরি করে স্ক্রিন ব্যবহার, অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি—এসবই ঘুমের মান খারাপ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত সময় মেনে ঘুমানো, সকালে সূর্যের আলো নেওয়া, ব্যায়াম করা এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার কমানো—এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের বার্তা পরিষ্কার—ঘুমের সমস্যা হলে দ্রুত সমাধানের জন্য সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং সঠিক কারণ খুঁজে তা সমাধান করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

ঘুমের সমস্যায় সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন মূল কারণ শনাক্ত করাই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ব্রিষ্টির মরদেহ দেশে

ঘুমের জন্য সাপ্লিমেন্টে ভরসা বাড়ছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

০৬:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ঘুম না আসার সমস্যায় অনেকেই এখন সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধের দিকে ঝুঁকছেন, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এগুলোকে ‘ম্যাজিক সমাধান’ ভাবা ঠিক নয়।

নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতি আটজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন নিয়মিত ঘুমের জন্য কোনো না কোনো সহায়ক উপাদান ব্যবহার করছেন। এতে ম্যাগনেসিয়াম, মেলাটোনিন কিংবা সিবিডি জাতীয় পণ্য অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে আরেকটি তথ্য বলছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম পাচ্ছেন না।

কেন বাড়ছে সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ, অনিয়মিত রুটিন এবং মানসিক উদ্বেগের কারণে ঘুমের সমস্যা বাড়ছে। অনেকেই দ্রুত সমাধানের আশায় সাপ্লিমেন্টের দিকে ঝুঁকছেন। তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এগুলো সমস্যার মূল কারণ দূর করে না, বরং সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি ঘুমের সমস্যায় ভোগেন এবং তারাই বেশি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যবহার বাড়লেও তরুণদের মধ্যে সিবিডি বা গাঁজা-জাতীয় পণ্যের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি।

ম্যাগনেসিয়াম ও মেলাটোনিন নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ম্যাগনেসিয়াম নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ প্রচারণা থাকলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রমাণ সীমিত। কিছু ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যাদের পেশির টান, খিঁচুনি বা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম আছে। তবে সব ধরনের ম্যাগনেসিয়াম সমানভাবে উপযোগী নয়, কিছু ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে।

অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আইসিইউতে এমপি আয়েনের স্ত্রী

অন্যদিকে, মেলাটোনিন শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের হরমোন হলেও সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এর কার্যকারিতা সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি সামান্য সময়ের জন্য ঘুম আসতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এটি প্লাসিবোর মতোই কাজ করে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকি
ঘুমের জন্য ব্যবহৃত কিছু ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধে অ্যান্টিহিস্টামিন থাকে, যা কিছু মানুষের ঘুম আনতে সাহায্য করলেও পরদিন ক্লান্তি বা ঝিমুনি তৈরি করতে পারে। এসব ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারেও ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মূল কারণ শনাক্ত করাই গুরুত্বপূর্ণ
চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় ঘুমের সমস্যার পেছনে থাকে স্লিপ অ্যাপনিয়া, উদ্বেগ, কিংবা অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। আবার কিছু ওষুধও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়াই জরুরি।

জীবনযাত্রার প্রভাব
ঘুমের ওপর দৈনন্দিন অভ্যাসের প্রভাবও বড়। অতিরিক্ত কাজের চাপ, রাতে দেরি করে স্ক্রিন ব্যবহার, অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি—এসবই ঘুমের মান খারাপ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত সময় মেনে ঘুমানো, সকালে সূর্যের আলো নেওয়া, ব্যায়াম করা এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার কমানো—এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের বার্তা পরিষ্কার—ঘুমের সমস্যা হলে দ্রুত সমাধানের জন্য সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং সঠিক কারণ খুঁজে তা সমাধান করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

ঘুমের সমস্যায় সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন মূল কারণ শনাক্ত করাই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান।