পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গলমহলের আদিবাসী বেল্ট থেকে উঠে আসা ক্ষুদিরাম টুডু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। শুক্রবার দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনিয়া ও নিশীথ প্রামাণিকের পাশাপাশি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ৫৫ বছর বয়সী এই প্রথমবারের বিধায়ক। বাঁকুড়া জেলার রানীবাঁধ (এসটি) আসনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে ৫২ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জঙ্গলমহল অঞ্চলে আদিবাসী ভোটারদের মধ্যে গভীরভাবে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় এবং টুডুর জয় সেই সাফল্যেরই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তিনি স্নাতক এবং তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ রুপি। তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।
বাঁকুড়া-পুরুলিয়ায় বিজেপির আদিবাসী কৌশলের প্রতিফলন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টুডুর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর কৌশলকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়াস। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের মতো এলাকায় দলটি কয়েক দফা নির্বাচনে ধীরে ধীরে তার সমর্থন বাড়িয়েছে। জঙ্গলমহলে বিজেপির প্রচারণায় কল্যাণমূলক কর্মসূচি, আদিবাসী পরিচয় এবং তৃণমূল সরকারের আমলে অবহেলার অভিযোগ কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে ছিল। তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও টুডুর উত্থান প্রমাণ করে যে তৃণমূল পর্যায়ের আদিবাসী নেতাদের উপর বিজেপির নির্ভরশীলতা ক্রমশ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















