চট্টগ্রামে পান কিনতে গিয়ে চোখে গুলি, জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে ১১ বছরের শিশু
চট্টগ্রামের রউফাবাদ এলাকায় গুলিবিদ্ধ ১১ বছরের এক শিশু হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। শিশুটি বাড়ির বাইরে পান কিনতে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। সেই সময় এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে। একটি গুলি শিশুটির চোখে লাগে এবং তার শরীরের ভেতরে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় সশস্ত্র হামলা বা গোলাগুলির সময় শিশুটি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিল। সে কোনো সংঘর্ষের অংশ ছিল না। সাধারণ একটি কাজে বেরিয়ে হঠাৎ গুলির শিকার হয়। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি তার চোখে আঘাত করে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায়।
একটি শিশুর চোখে গুলি লাগার ঘটনা শুধু অপরাধ নয়, নগর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলে। একজন শিশু যদি পাড়ার দোকানে যেতে গিয়েও নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
নগর এলাকায় অস্ত্রের দাপট
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক প্রভাব, অপরাধী চক্র ও স্থানীয় বিরোধের কারণে মাঝে মাঝে গুলির ঘটনা ঘটে। এসব সংঘর্ষে যারা সরাসরি যুক্ত নয়, তারাও শিকার হয়। শিশু, পথচারী, দোকানদার, রিকশাচালক বা সাধারণ মানুষ—কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে না।
এই ঘটনার সঙ্গে চট্টগ্রামে অবৈধ গুলি ও অস্ত্রের প্রবাহের প্রশ্নও জড়িয়ে যায়। একই দিনে শহরে বিপুল পরিমাণ পিস্তলের গুলি উদ্ধার হওয়ার খবর এসেছে। যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত নয়, তবু নগরে অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি যে বাস্তব আতঙ্ক তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।
শিশুর চিকিৎসা ও ন্যায়বিচারের দাবি
এ ধরনের ঘটনার পর প্রথম দায়িত্ব হলো শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। চোখ, স্নায়ু, রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ ও অন্যান্য জটিলতা দ্রুত সামাল দিতে না পারলে জীবনঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। পরিবারটির পাশে প্রশাসন ও সমাজের দাঁড়ানো জরুরি।
একই সঙ্গে গুলির উৎস, হামলাকারী কারা, কেন গুলি চালানো হলো এবং কীভাবে একটি শিশু এর শিকার হলো—এসব প্রশ্নের উত্তরও দরকার। শুধু মামলা নয়, অপরাধী চক্রের অস্ত্রভান্ডার, পৃষ্ঠপোষকতা এবং এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসের শিকড়ে পৌঁছানো জরুরি। না হলে আজ এই শিশু, কাল অন্য কেউ একইভাবে গুলির শিকার হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















