১২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

মেহেরপুরে ছয় বছরের শিশু নিহত

মেহেরপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে বালুবোঝাই যানের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় রাস্তা পার হতে গিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত বালুবোঝাই যানের ধাক্কায় ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম আনিসা খাতুন। সে করমদি গ্রামের সাজেদুল হকের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শনিবার সকালে গাংনীর করমদি সন্ধানী মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনিসা তেঁতুলবাড়িয়া-বামন্দী সড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় বালুবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত যান তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শিশুটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর চালক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশুর সড়ক, ভারী যানের দাপট

বাংলাদেশের গ্রামীণ ও উপশহর এলাকায় ছোট সড়কে বালুবোঝাই ট্রলি, নসিমন, করিমন, ভটভটি বা স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল করে। এসব যান অনেক সময় নিয়ন্ত্রণহীন, শব্দদূষণকারী এবং পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তারা রাস্তার গতি, যানবাহনের দূরত্ব বা বিপদের মাত্রা বুঝে উঠতে পারে না।

আনিসার মৃত্যু সেই পরিচিত কিন্তু অবহেলিত ঝুঁকিকেই নতুন করে সামনে আনল। একটি প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর জীবন শেষ হয়ে গেল এমন এক সড়কে, যেটি তার প্রতিদিনের চলাচলের অংশ ছিল।

ক্ষোভের সঙ্গে দরকার স্থায়ী ব্যবস্থা

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল ক্ষোভের। চালককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু একজন চালককে আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এসব স্থানীয় যানবাহনের নিবন্ধন, গতি, চালকের যোগ্যতা, বালু পরিবহনের অনুমতি এবং স্কুল এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি দরকার।

শিশুদের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের যৌথ দায়িত্ব। আনিসার মৃত্যু যদি সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করে, তবে অন্তত ভবিষ্যতে কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

মেহেরপুরে ছয় বছরের শিশু নিহত

০৮:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

মেহেরপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে বালুবোঝাই যানের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় রাস্তা পার হতে গিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত বালুবোঝাই যানের ধাক্কায় ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম আনিসা খাতুন। সে করমদি গ্রামের সাজেদুল হকের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শনিবার সকালে গাংনীর করমদি সন্ধানী মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনিসা তেঁতুলবাড়িয়া-বামন্দী সড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় বালুবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত যান তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শিশুটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর চালক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশুর সড়ক, ভারী যানের দাপট

বাংলাদেশের গ্রামীণ ও উপশহর এলাকায় ছোট সড়কে বালুবোঝাই ট্রলি, নসিমন, করিমন, ভটভটি বা স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল করে। এসব যান অনেক সময় নিয়ন্ত্রণহীন, শব্দদূষণকারী এবং পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তারা রাস্তার গতি, যানবাহনের দূরত্ব বা বিপদের মাত্রা বুঝে উঠতে পারে না।

আনিসার মৃত্যু সেই পরিচিত কিন্তু অবহেলিত ঝুঁকিকেই নতুন করে সামনে আনল। একটি প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর জীবন শেষ হয়ে গেল এমন এক সড়কে, যেটি তার প্রতিদিনের চলাচলের অংশ ছিল।

ক্ষোভের সঙ্গে দরকার স্থায়ী ব্যবস্থা

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল ক্ষোভের। চালককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু একজন চালককে আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এসব স্থানীয় যানবাহনের নিবন্ধন, গতি, চালকের যোগ্যতা, বালু পরিবহনের অনুমতি এবং স্কুল এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি দরকার।

শিশুদের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের যৌথ দায়িত্ব। আনিসার মৃত্যু যদি সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করে, তবে অন্তত ভবিষ্যতে কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।