বাহরাইনে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪১ জন আটক
বাহরাইনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪১ জনকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী এমন একটি চক্র শনাক্ত করেছে, যাদের ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই আটক অভিযান নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাহরাইন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অংশীদার এবং সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতিও রয়েছে। ফলে ইরান-সংশ্লিষ্ট সন্দেহে এত বড় সংখ্যক ব্যক্তিকে আটক করা শুধু বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
উপসাগরে ইরান আতঙ্ক
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো এক অস্বস্তিকর অবস্থায় আছে। একদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছায়ায় আছে, অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও প্রভাববলয়ের ভয়ও আছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো তাই সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও যুদ্ধের অভিঘাত থেকে বেরিয়ে থাকতে পারছে না।
বাহরাইনে আটক ৪১ জনের ঘটনা সেই ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এতে বোঝা যাচ্ছে, উপসাগরের ভেতরেও ইরান-সমর্থিত নেটওয়ার্ক বা সহানুভূতিশীল গোষ্ঠী নিয়ে রাষ্ট্রগুলো সতর্ক হয়ে উঠছে। যদিও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি, তবু ঘটনাটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশি পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের বহু শ্রমিক, প্রবাসী ও পরিবার উপসাগরীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে তার প্রভাব প্রবাসী শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স, বিমান চলাচল, জ্বালানি মূল্য এবং বিদেশি মুদ্রার ওপর পড়তে পারে।
এই ঘটনা তাই দূরের খবর নয়। ইরান যুদ্ধ যদি শুধু সমুদ্রপথ বা সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ না থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ভেতরের নিরাপত্তা রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হবে। বাহরাইনের আটক অভিযান সেই বৃহত্তর সংকটেরই একটি নতুন ইঙ্গিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















