হরমুজ প্রণালিতে আবারও সংঘর্ষ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শেষের পথ এখনো অনিশ্চিত
ইরান যুদ্ধ ঘিরে হরমুজ প্রণালিতে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক চেষ্টা চললেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো গভীর। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষের জন্য একটি প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ইরান এখনো সেই প্রস্তাব বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, সমুদ্রপথে চলাচল, তেল পরিবহন ও নিষেধাজ্ঞা ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন বাহিনী ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে, আর ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করছে।
কেন হরমুজ এত গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলপথগুলোর একটি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যেত। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অ-ইরানি জাহাজ চলাচলে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। ফলে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।
বাংলাদেশের মতো দেশ সরাসরি এই সংঘর্ষে পক্ষ না হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আমদানি খরচ এবং দ্রব্যমূল্যে চাপ পড়ে। তাই হরমুজে সামান্য উত্তেজনাও বাংলাদেশের বাজারে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
যুদ্ধবিরতি আছে, কিন্তু শান্তি নেই
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে। কিন্তু ইরান বলছে, মার্কিন হামলা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে। এই দ্বৈত অবস্থানই দেখায়, যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে থেমে গেলেও বাস্তবে সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে।
পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে কূটনীতি, নৌ অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং সীমিত সামরিক সংঘর্ষ একসঙ্গে চলছে। যদি দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে হরমুজ প্রণালির সংকট আবারও বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















