রাঙ্গামাটির সাজেকে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম হেগেরা চাকমা। তার বয়স ৪৯ বছর। শনিবার সকালে সাজেকের শুকনোছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ইউপিডিএফের প্রসিত খীসা নেতৃত্বাধীন অংশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, হেগেরা চাকমা ও আরও দুইজন শুকনোছড়ি গ্রামের একটি বাড়িতে রাত কাটিয়েছিলেন। সকালে সাংগঠনিক কাজে বের হওয়ার সময় ওত পেতে থাকা অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাহাড়ে পুরনো দ্বন্দ্বের নতুন রক্তপাত
পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্ব বহুদিনের। বিভিন্ন সময়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। সাজেকের এই ঘটনা সেই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতারই আরেকটি রক্তাক্ত দৃষ্টান্ত।
স্থানীয় মানুষদের জন্য এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধু রাজনৈতিক খবর নয়, নিরাপত্তাহীনতার বাস্তব অভিজ্ঞতা। পাহাড়ি জনপদে সাধারণ মানুষ প্রায়ই প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর উত্তেজনা, ভয় এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিন কাটায়। একটি হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া তাই অস্বাভাবিক নয়।
তদন্তে দরকার নিরপেক্ষতা
ইউপিডিএফ প্রতিপক্ষকে দায়ী করলেও অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা তদন্তেই নির্ধারিত হবে। পুলিশ বলছে, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি, কারণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পাল্টা অভিযোগের ভেতরে প্রকৃত অপরাধী অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।
সাজেক এখন পর্যটনের জন্য পরিচিত হলেও এই অঞ্চলের ভেতরে নিরাপত্তা বাস্তবতা জটিল। পর্যটন, স্থানীয় জীবন, পাহাড়ি রাজনীতি এবং নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে রাঙ্গামাটির এ হত্যাকাণ্ড শুধু একটি স্থানীয় অপরাধ নয়; এটি পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















