চীনের একদল বিজ্ঞানী বিশ্বের সবচেয়ে ছোট এবং সর্বোচ্চ শক্তি-সাশ্রয়ী ট্রানজিস্টর উন্মোচন করেছেন। গবেষকদের দাবি, এই উদ্ভাবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হার্ডওয়্যার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
ফেরোইলেকট্রিক ট্রানজিস্টরে সাফল্য
গবেষক দলটি যে প্রযুক্তিতে সাফল্য পেয়েছে তা হলো ফেরোইলেকট্রিক ট্রানজিস্টর বা ফেফেট। এই ট্রানজিস্টর মানব মস্তিষ্কের নিউরনের মতো কাজ করতে পারে। এটি একই ইউনিটে তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করতে সক্ষম, ফলে তথ্য আদান-প্রদানের সময় যে বিলম্ব হয় তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

প্রচলিত সেমিকন্ডাক্টর চিপে তথ্য সংরক্ষণ ও গণনা আলাদা অংশে সম্পন্ন হয়। এই বিভাজনের কারণে ডেটা আদান-প্রদানে বাধা সৃষ্টি হয় এবং কর্মক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। গবেষকদের মতে, ফেফেট এই সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক চিউ চেংগুয়াং বলেন, ফেফেটের ইন-মেমরি কম্পিউটিং সক্ষমতা ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপের বিকাশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, শিল্পখাত এই প্রযুক্তিকে মস্তিষ্ক-অনুপ্রাণিত নিউরোমরফিক কম্পিউটিং বাস্তবায়নের অন্যতম সম্ভাবনাময় ডিভাইস হিসেবে বিবেচনা করছে।
গবেষণা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
![]()
চিউ চেংগুয়াং এবং চীনা বিজ্ঞান একাডেমির সদস্য পেং লিয়ানমাওয়ের নেতৃত্বে এই গবেষণা সম্পন্ন হয়। তাদের তৈরি এই ক্ষুদ্রতম ও শক্তি-দক্ষ ফেরোইলেকট্রিক ট্রানজিস্টর নিয়ে গবেষণাপত্রটি চলতি মাসে বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ নির্মাণে গতি ও দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















