শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোতে এস আলম গ্রুপকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের কোনো প্রভাব পড়েনি বলে সংসদে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির। রোববার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ফলে গ্রুপটির শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ বা কর্মসংস্থানের বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই।
এ সময় তিনি আরও জানান, গ্রুপটির জব্দ হওয়া সম্পদ বা কারখানা পরিচালনার জন্য কোনো রিসিভার নিয়োগের পরিকল্পনাও সরকারের নেই।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব: সার উৎপাদনে চাপ
মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে দেশের সব ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে শুধুমাত্র ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা উৎপাদনে রয়েছে বলে জানান তিনি।
আমদানি বাড়িয়ে সংকট মোকাবিলা
সারের ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার অতিরিক্ত ৭ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের সাবিক থেকে ২ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ১ লাখ এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৪ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আগামী ১ মে থেকে শাহজালাল সার কারখানায় উৎপাদন পুনরায় শুরু হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
কাঁচামাল সংগ্রহে জিটুজি উদ্যোগ
টিএসপি ও ডিএপি সার কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল—রক ফসফেট ও ফসফরিক অ্যাসিড সংগ্রহে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মরক্কো, জর্ডান, ওমান, চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান মন্ত্রী।
এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে সার উৎপাদনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















