১০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, সংসদে জানালেন মন্ত্রী

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল জমে আছে বলে সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানিসহ মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে এই বিপুল অঙ্কের পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। প্রশ্নটি উত্থাপন করেন ঢাকার এক সংসদ সদস্য।

বকেয়া টাকার খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ
মন্ত্রী জানান, মোট বকেয়া অর্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন খাতে বণ্টিত। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ সংস্থা পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাস বিল বাবদ পাওনা রয়েছে ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিল বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এছাড়া গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) জন্য সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ ও আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে কয়লার দাম ও সক্ষমতা ভাড়া বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

সরকারি কোম্পানি ও অন্যান্য খাত
সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছেও সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ ৫ হাজার ৬২৩ কোটি ৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন বা হাউলিং চার্জ বাবদ বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

ব্যাংক ঋণের চাপ
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা খাতটির আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে বাড়তে থাকা এই বকেয়া ও ঋণের চাপ ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, সংসদে জানালেন মন্ত্রী

০৫:৪০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল জমে আছে বলে সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানিসহ মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে এই বিপুল অঙ্কের পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। প্রশ্নটি উত্থাপন করেন ঢাকার এক সংসদ সদস্য।

বকেয়া টাকার খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ
মন্ত্রী জানান, মোট বকেয়া অর্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন খাতে বণ্টিত। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ সংস্থা পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাস বিল বাবদ পাওনা রয়েছে ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিল বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এছাড়া গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) জন্য সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ ও আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে কয়লার দাম ও সক্ষমতা ভাড়া বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

সরকারি কোম্পানি ও অন্যান্য খাত
সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছেও সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ ৫ হাজার ৬২৩ কোটি ৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন বা হাউলিং চার্জ বাবদ বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

ব্যাংক ঋণের চাপ
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা খাতটির আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে বাড়তে থাকা এই বকেয়া ও ঋণের চাপ ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।