০২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, সংঘর্ষ-গ্রেফতার-সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক মণিপুরে নতুন করে হত্যাকাণ্ড, দ্রুত তদন্ত ও শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চায় কংগ্রেস বিজেপি মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সীমা পুনর্নির্ধারণ চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল: কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে.সি. ভেনুগোপাল এআইএডিএমকেকে বিজেপির  নিয়ন্ত্রণে : ওদের ভোট দেবেন না -কেজরিওয়াল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকচাপায় কিশোর নিহত, দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার বাদ দিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’: কেন এই যুক্তি প্রশ্নের মুখে এলসি পতন, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈশ্বিক চাপ—বাংলাদেশের ব্যবসা এখন বহুমুখী সংকটে যুদ্ধবাজরা ইতিহাসকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে জেমস কনোলি: এডিনবরার সন্তান থেকে আইরিশ বিদ্রোহের সমাজতান্ত্রিক মুখ শীতল যুদ্ধের শিশুদের চোখে ভয়, প্রতিবাদ আর বেড়ে ওঠার গল্প—নতুন গবেষণায় উঠে এলো অজানা ইতিহাস

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, সংসদে জানালেন মন্ত্রী

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল জমে আছে বলে সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানিসহ মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে এই বিপুল অঙ্কের পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। প্রশ্নটি উত্থাপন করেন ঢাকার এক সংসদ সদস্য।

বকেয়া টাকার খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ
মন্ত্রী জানান, মোট বকেয়া অর্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন খাতে বণ্টিত। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ সংস্থা পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাস বিল বাবদ পাওনা রয়েছে ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিল বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এছাড়া গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) জন্য সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ ও আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে কয়লার দাম ও সক্ষমতা ভাড়া বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

সরকারি কোম্পানি ও অন্যান্য খাত
সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছেও সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ ৫ হাজার ৬২৩ কোটি ৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন বা হাউলিং চার্জ বাবদ বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

ব্যাংক ঋণের চাপ
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা খাতটির আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে বাড়তে থাকা এই বকেয়া ও ঋণের চাপ ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, সংঘর্ষ-গ্রেফতার-সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, সংসদে জানালেন মন্ত্রী

০৫:৪০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল জমে আছে বলে সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানিসহ মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে এই বিপুল অঙ্কের পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। প্রশ্নটি উত্থাপন করেন ঢাকার এক সংসদ সদস্য।

বকেয়া টাকার খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ
মন্ত্রী জানান, মোট বকেয়া অর্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন খাতে বণ্টিত। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ সংস্থা পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাস বিল বাবদ পাওনা রয়েছে ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিল বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এছাড়া গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) জন্য সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ ও আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে কয়লার দাম ও সক্ষমতা ভাড়া বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

সরকারি কোম্পানি ও অন্যান্য খাত
সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছেও সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ ৫ হাজার ৬২৩ কোটি ৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন বা হাউলিং চার্জ বাবদ বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

ব্যাংক ঋণের চাপ
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা খাতটির আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে বাড়তে থাকা এই বকেয়া ও ঋণের চাপ ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।