০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
আমেরিকার নতুন কৌশল, আসিয়ানের কঠিন ভারসাম্য সাগরে ৩৬ দিন ধরে ভেসে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করল বাংলাদেশি জেলেরা মারধরের পর ছাত্রলীগ পরিচয়ে কারাগারে, যা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হবিগঞ্জে এনসিপি-ছাত্রদল সংঘর্ষ, ব্যাংকে অবরুদ্ধ পাটওয়ারী ও সারজিস সন্তানহীন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহর, কমছে শিশুর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটে বিধিনিষেধ, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইল ট্রাম্প প্রশাসন হংকংয়ের সাবেক বিরোধী নেতা উ চি-ওয়াইকে যুক্তরাজ্যে ছয় মাস থাকার অনুমতি ২১ বছর বয়সেই সাহিত্যজগতে ঝড় তুলেছিলেন ব্রেট ইস্টন এলিস, ‘লেস দ্যান জিরো’ নিয়ে মুখ খুললেন ত্বকের যত্নে নতুন চমক, একসঙ্গে আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা দেবে টোনার প্যাড এইডস প্রতিরোধে অর্থসংকট, বিশ্বজুড়ে আবারও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, সংসদে জানালেন মন্ত্রী

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল জমে আছে বলে সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানিসহ মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে এই বিপুল অঙ্কের পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। প্রশ্নটি উত্থাপন করেন ঢাকার এক সংসদ সদস্য।

বকেয়া টাকার খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ
মন্ত্রী জানান, মোট বকেয়া অর্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন খাতে বণ্টিত। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ সংস্থা পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাস বিল বাবদ পাওনা রয়েছে ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিল বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এছাড়া গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) জন্য সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ ও আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে কয়লার দাম ও সক্ষমতা ভাড়া বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

সরকারি কোম্পানি ও অন্যান্য খাত
সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছেও সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ ৫ হাজার ৬২৩ কোটি ৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন বা হাউলিং চার্জ বাবদ বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

ব্যাংক ঋণের চাপ
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা খাতটির আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে বাড়তে থাকা এই বকেয়া ও ঋণের চাপ ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকার নতুন কৌশল, আসিয়ানের কঠিন ভারসাম্য

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, সংসদে জানালেন মন্ত্রী

০৫:৪০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল জমে আছে বলে সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানিসহ মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে এই বিপুল অঙ্কের পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। প্রশ্নটি উত্থাপন করেন ঢাকার এক সংসদ সদস্য।

বকেয়া টাকার খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ
মন্ত্রী জানান, মোট বকেয়া অর্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন খাতে বণ্টিত। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ সংস্থা পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাস বিল বাবদ পাওনা রয়েছে ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিল বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এছাড়া গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) জন্য সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ ও আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে কয়লার দাম ও সক্ষমতা ভাড়া বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

সরকারি কোম্পানি ও অন্যান্য খাত
সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছেও সক্ষমতা ভাড়া ও জ্বালানি বাবদ ৫ হাজার ৬২৩ কোটি ৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন বা হাউলিং চার্জ বাবদ বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

ব্যাংক ঋণের চাপ
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা খাতটির আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে বাড়তে থাকা এই বকেয়া ও ঋণের চাপ ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।