ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্ভাব্য বিশাল অঙ্কের জরিমানার মুখে সার্চ ফলাফলে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে গুগল। অভিযোগ উঠেছে, হোটেল, ফ্লাইট ও রেস্তোরাঁ খোঁজার ক্ষেত্রে নিজেদের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছিয়ে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসতেই এবার সার্চ পদ্ধতিতে নতুন পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি।
ইউরোপে ডিজিটাল বাজার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের মুখে রয়েছে গুগল। আইন ভাঙলে বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ দশ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ফলে বিষয়টি কোম্পানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইউরোপীয় চাপের মুখে গুগলের কৌশল
গত বছরের মার্চে ডিজিটাল বাজার আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয় গুগলের বিরুদ্ধে। এরপর থেকে ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের সন্তুষ্ট করতে একাধিক প্রস্তাব দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলো সেই প্রস্তাবকে অপর্যাপ্ত বলে অভিযোগ তোলে।
এবার যে পরিবর্তনের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, সেখানে সার্চ ফলাফলে গুগলের নিজস্ব ফলাফলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র খাতভিত্তিক সার্চ সেবাগুলোকেও সমানভাবে দেখানো হবে। বিশেষ করে হোটেল, বিমান সংস্থা ও রেস্তোরাঁ সংক্রান্ত অনুসন্ধানে শীর্ষস্থানীয় বিকল্প সার্চ সাইটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপরে প্রদর্শিত হবে।
![]()
সার্চ ফলাফলে কী বদল আসছে
নতুন ব্যবস্থায় খাতভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিনের তালিকা আলাদা করে দেখানো হবে। সেই তালিকার উপরে বা নিচে হোটেল, বিমান সংস্থা, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন সেবার সরাসরি তথ্য যুক্ত থাকবে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা এক নজরেই বিভিন্ন উৎসের ফলাফল দেখতে পাবেন।
প্রথম ধাপে ইউরোপজুড়ে আবাসন সংক্রান্ত অনুসন্ধানে এই পরিবর্তন চালু হবে। পরবর্তী সময়ে ফ্লাইট ও অন্যান্য সেবাতেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিশাল জরিমানার আশঙ্কা
ডিজিটাল বাজার আইন লঙ্ঘন করলে কোম্পানির বৈশ্বিক আয়ের দশ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। ইতোমধ্যে ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আইন ভঙ্গের অভিযোগে প্রায় ৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা গুনেছে গুগল।
বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় কড়াকড়ি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও উত্তেজনা তৈরি করেছে। ডিজিটাল পরিষেবা আইন ও প্রতিযোগিতা আইনের কঠোর প্রয়োগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে সার্চ ফলাফলে পরিবর্তন গুগলের জন্য কেবল প্রযুক্তিগত আপডেট নয়, বরং একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















