যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের একটি দম্পতিকে ভয় দেখানো, অনুসরণ করা এবং ঘরে ঘরে অদ্ভুত পার্সেল পাঠানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত দেওয়ানি মামলার অবসান ঘটেছে। অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ইবে অবশেষে সমঝোতায় পৌঁছেছে, ফলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে অস্বাভাবিক করপোরেট হেনস্তা মামলাগুলোর একটি শেষ হলো।
নাটিক শহরের বাসিন্দা ডেভিড স্টেইনার ও ইনা স্টেইনার ২০২১ সালে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের জেরে ইবের তৎকালীন কিছু কর্মী সংগঠিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক নির্যাতনের পরিকল্পনা চালায়। এই দম্পতি অনলাইন বাণিজ্য খাত নিয়ে ‘ইকমার্সবাইটস’ নামে একটি নিউজলেটার পরিচালনা করেন।
ভয়ভীতি, নজরদারি ও রহস্যময় পার্সেল
![]()
মামলায় উল্লেখ করা হয়, সাবেক কর্মীরা সাইবার অনুসরণ, মৃত্যুর হুমকি, সরাসরি নজরদারি এবং একের পর এক অজ্ঞাতনামা পার্সেল পাঠানোর মাধ্যমে তাদের আতঙ্কিত করার চেষ্টা করে। তাদের বাড়িতে জীবন্ত পোকামাকড়, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ফুলের মালা এবং আরও কিছু অস্বস্তিকর সামগ্রী পাঠানো হয়।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেনস্তার মাত্রা এখানেই থেমে থাকেনি। ডেভিড স্টেইনারের নামে পাশের বাসায় অশ্লীল ম্যাগাজিন পাঠানো হয় এবং গোপনে তাদের গাড়িতে অবস্থান নির্ণায়ক যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও সমঝোতার শর্ত
সমঝোতার শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক প্যাটি সারিস বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত না হলে যে কোনো পক্ষ পুনরায় মামলা চালুর সুযোগ রাখার নির্দেশ দেন।
ইবে পক্ষ থেকে বিস্তারিত মন্তব্য না করে আদালতের আদেশের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময় প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছিল, সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মীদের কর্মকাণ্ড ছিল ভুল এবং ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফৌজদারি মামলা ও আর্থিক জরিমানা
২০২০ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটররা ইবের সাতজন সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা স্টেইনার দম্পতির প্রতিবেদন প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে সমন্বিতভাবে হেনস্তা অভিযান চালান। অভিযুক্তদের অধিকাংশই ষড়যন্ত্র ও সাইবার অনুসরণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং কারাদণ্ড অথবা গৃহবন্দি থাকার সাজা পান।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ইবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক স্থগিত বিচার চুক্তির আওতায় ৩০ লাখ ডলার ফৌজদারি জরিমানা দিতে সম্মত হয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, করপোরেট পর্যায়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং তার আইনি পরিণতি কতটা কঠোর হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















