ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে চালানো হামলাকে ‘স্পষ্ট ও কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে পাল্টা জবাবও দেওয়া হবে।
শনিবার এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও জর্ডানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে যে হামলা চালানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এসব দেশের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে রিয়াদ বলেছে, তারা যে কোনো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিলে সৌদি আরব তার পাশে থাকবে।
রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে হামলা প্রতিহত
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে চালানো হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো অজুহাতেই এই হামলার যৌক্তিকতা নেই। এর আগে সৌদি আরব স্পষ্ট করে দিয়েছিল, তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সেই অবস্থান জেনেও ইরান এই আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ রিয়াদের।
বাহরাইনে ধোঁয়া, জুফাইরে সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দারা
বাহরাইনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। রাজধানী মানামার জুফাইর এলাকায়, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি রয়েছে, সেখান থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরান দাবি করেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ভূখণ্ডের ভেতর সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার কথাও জানায় তেহরান।
আমিরাতে হতাহত, অবকাঠামোর ক্ষতি
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, দুবাই ও আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
তেহরানে বড় হামলা, বাড়ছে প্রাণহানি
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায়। তেহরানে সরাসরি আঘাতে শহরের আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ইসফাহান, শিরাজ ও তাবরিজ শহরেও বিস্ফোরণের খবর আসে। ইরানের দাবি, এসব হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছে।
আঞ্চলিক সংহতি জোরদার
এই প্রেক্ষাপটে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানি, কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহ এবং জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি আরবের সব সম্পদ কাজে লাগানোর প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে টানটান উত্তেজনা
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। একদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা, অন্যদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি অভিযানের জেরে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















