০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
হামের মহামারী: “শিশু হত্যায় কাঁপিছে বসুন্ধরা” হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট কান মঞ্চে শাড়ির নতুন রূপ: আলিয়া ভাটের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুকে ঝড় যখন আকাশ মেঘলা  হরমুজের লড়াই: জ্বালানি পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাত চীনা গাড়ির সামনে আমেরিকার দেয়াল কতদিন টিকবে আল-কায়েদার ছায়া কি আবার বিশ্বকে তাড়া করছে? লেবার পার্টির পুরোনো জোট ভেঙে গেছে, স্টারমার একা এর সমাধান নন স্টারমারের নেতৃত্বে চাপে ব্রিটিশ লেবার পার্টি, ভাঙনের আশঙ্কায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আফ্রিকার একাধিক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ

রাজস্ব নীতি: নারীর ওপর অনিচ্ছাকৃত প্রভাব কীভাবে চিহ্নিত ও সমাধান করা যায়

রাজস্ব বাড়ানো বা দক্ষতা উন্নত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া সরকারি কর ও বাজেট নীতিগুলো অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও পুরুষের ওপর ভিন্ন প্রভাব ফেলে। যৌথ করদাখিল, আয়ের নির্দিষ্ট সীমা, কিংবা কাজ ও পরিচর্যার দায়িত্বের বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা নীতিমালা নারীদের কার্যকর করহার বাড়িয়ে দিতে পারে, সামাজিক সুরক্ষা সুবিধায় প্রবেশ সীমিত করতে পারে এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের নারী, ব্যবসা ও আইন উদ্যোগ সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দেখিয়েছে, কীভাবে বিভিন্ন দেশের কর ও বাজেট কাঠামো বিশ্লেষণ করে এসব বৈষম্যমূলক দিক শনাক্ত করা যায় এবং সহজ সংস্কারের মাধ্যমে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব। “কর ও বাজেট প্রণয়নে লিঙ্গমাত্রা মানচিত্রায়ন: বিভিন্ন দেশের আইন, নীতি ও চর্চার তুলনামূলক বিশ্লেষণ” শীর্ষক এই গবেষণা সরকারগুলোর জন্য একটি ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা তৈরি করেছে।

রাজস্ব নীতি কখনোই নারীর জন্য নিরপেক্ষ নয়

কর ও বাজেট কেবল রাজস্ব সংগ্রহের উপায় নয়; এগুলো আয় পুনর্বণ্টন করে, আচরণে প্রভাব ফেলে এবং রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। কিন্তু রাজস্ব সংগ্রহ বা ব্যয়ের দক্ষতার দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে গিয়ে নারী-পুরুষের ওপর এর ভিন্ন প্রভাব প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে।

এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী গবেষণাগুলো কর বা ব্যয়—দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করেছে। নতুন তথ্যভিত্তিক উদ্যোগটি প্রথমবারের মতো ৮১টি অর্থনীতিতে কর কাঠামো এবং ৫০টি অর্থনীতিতে লিঙ্গসংবেদনশীল বাজেট প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে। এতে দেখা যায়, কোথাও কর ও বাজেট উভয় ক্ষেত্রেই লিঙ্গসমতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আবার কোথাও একটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলেও অন্য ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। ফলে সামগ্রিক সমন্বয়ের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

করনীতি: ‘নিরপেক্ষ’ নিয়মও সব সময় নিরপেক্ষ নয়

কর ব্যবস্থায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

প্রথমত, করদাখিল পদ্ধতি। যৌথ বা পৃথক করদাখিল শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করে। পৃথক করদাখিল ব্যবস্থা নারীদের কর্মসংস্থানে উৎসাহ দেয়—বিশেষত যখন শিশুসেবা ও নমনীয় কর্মব্যবস্থা যুক্ত থাকে। তবুও কিছু দেশে বাধ্যতামূলক যৌথ দাখিল প্রচলিত রয়েছে, আবার কোথাও করদাতারা পছন্দের সুযোগ পান।

দ্বিতীয়ত, আয়কর বিধান। কিছু দেশে নারীদের জন্য করমুক্ত আয়ের উচ্চসীমা বা নারী নিয়োগে করছাড়ের মতো ইতিবাচক ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে কোথাও এমন বিধান আছে, যেখানে পরিবারের ভাতা বা করছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বামীর নামে বরাদ্দ হয়, যা নারীর আর্থিক স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করে।

তৃতীয়ত, কর প্রশাসন ও তথ্যসংগ্রহ। ৮১টি অর্থনীতির মধ্যে মাত্র ৪১টিতে কর নিবন্ধনের সময় নারী-পুরুষভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আর কোনো দেশই করব্যয় প্রতিবেদনে নারী-পুরুষভিত্তিক প্রভাব বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করে না। ফলে করছাড়, অব্যাহতি বা প্রণোদনা নারী ও পুরুষের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা সঠিকভাবে বোঝা যায় না।

এই বাস্তবতা প্রমাণ করে, কর কাঠামোর নকশা সরাসরি সমতা ও দক্ষতার ওপর প্রভাব ফেলে। পৃথক করদাখিল, প্রশাসনিক সরলীকরণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা জোরদার করলে ন্যায্যতা ও অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।

Women, Business and the Law 2024

বাজেট: সরকারি ব্যয় কি নারীর সুযোগ বাড়ায়

সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও লিঙ্গমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, আইন ও নীতিগত কাঠামো। ৫০টি অর্থনীতির মধ্যে ৪১টিতে এমন আইন বা নীতি রয়েছে, যা বাজেট প্রক্রিয়ায় নারী-পুরুষের ভিন্ন প্রভাব বিবেচনা করে। এতে নীতিগত স্থায়িত্ব বাড়ে।

দ্বিতীয়ত, নারী-পুরুষভিত্তিক তথ্য প্রকাশ। কিছু দেশ কর্মসূচিভিত্তিক উপকারভোগীর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ায়।

তৃতীয়ত, প্রভাব মূল্যায়ন। অল্পসংখ্যক দেশ নিয়মিতভাবে ব্যয়ের লিঙ্গভিত্তিক প্রভাব মূল্যায়ন করে। মাত্র কয়েকটি দেশে এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

চতুর্থত, নারীদের জন্য নির্দিষ্ট বা চিহ্নিত বরাদ্দ। ৪২টি অর্থনীতি নারী ও কন্যাশিশুর জন্য আলাদা তহবিল নির্ধারণ করে। তবে এসব বরাদ্দ কার্যকর হতে হলে তা জাতীয় অগ্রাধিকার ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।

বাজেট রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত করে। পুরো বাজেট চক্রজুড়ে তথ্য, মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি ব্যয় সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে পারে।

মানচিত্রায়ন থেকে বাস্তব প্রভাব

এই গবেষণা একটি সূচনা মাত্র। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন—যেমন কর-সুবিধার বণ্টন বিশ্লেষণ, আচরণগত গবেষণা এবং ব্যয় কর্মসূচির প্রভাব পর্যালোচনা। রাজস্ব ও ব্যয়—উভয় দিক একত্রে মূল্যায়ন না করলে সামগ্রিক প্রভাব বোঝা যায় না।

এর জন্য প্রয়োজন আরও নির্ভরযোগ্য নারী-পুরুষভিত্তিক তথ্য, শক্তিশালী গৃহস্থালি জরিপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে রাজস্ব কাঠামোকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা বৈষম্য বাড়ায় না, বরং সমতা জোরদার করে।

এই উদ্যোগ সরকারগুলোকে অগ্রগতি পরিমাপ ও সংস্কারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্যনির্ভর সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব নীতিকে সমতার শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের মহামারী: “শিশু হত্যায় কাঁপিছে বসুন্ধরা”

রাজস্ব নীতি: নারীর ওপর অনিচ্ছাকৃত প্রভাব কীভাবে চিহ্নিত ও সমাধান করা যায়

০৯:০০:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

রাজস্ব বাড়ানো বা দক্ষতা উন্নত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া সরকারি কর ও বাজেট নীতিগুলো অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও পুরুষের ওপর ভিন্ন প্রভাব ফেলে। যৌথ করদাখিল, আয়ের নির্দিষ্ট সীমা, কিংবা কাজ ও পরিচর্যার দায়িত্বের বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা নীতিমালা নারীদের কার্যকর করহার বাড়িয়ে দিতে পারে, সামাজিক সুরক্ষা সুবিধায় প্রবেশ সীমিত করতে পারে এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের নারী, ব্যবসা ও আইন উদ্যোগ সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দেখিয়েছে, কীভাবে বিভিন্ন দেশের কর ও বাজেট কাঠামো বিশ্লেষণ করে এসব বৈষম্যমূলক দিক শনাক্ত করা যায় এবং সহজ সংস্কারের মাধ্যমে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব। “কর ও বাজেট প্রণয়নে লিঙ্গমাত্রা মানচিত্রায়ন: বিভিন্ন দেশের আইন, নীতি ও চর্চার তুলনামূলক বিশ্লেষণ” শীর্ষক এই গবেষণা সরকারগুলোর জন্য একটি ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা তৈরি করেছে।

রাজস্ব নীতি কখনোই নারীর জন্য নিরপেক্ষ নয়

কর ও বাজেট কেবল রাজস্ব সংগ্রহের উপায় নয়; এগুলো আয় পুনর্বণ্টন করে, আচরণে প্রভাব ফেলে এবং রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। কিন্তু রাজস্ব সংগ্রহ বা ব্যয়ের দক্ষতার দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে গিয়ে নারী-পুরুষের ওপর এর ভিন্ন প্রভাব প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে।

এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী গবেষণাগুলো কর বা ব্যয়—দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করেছে। নতুন তথ্যভিত্তিক উদ্যোগটি প্রথমবারের মতো ৮১টি অর্থনীতিতে কর কাঠামো এবং ৫০টি অর্থনীতিতে লিঙ্গসংবেদনশীল বাজেট প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে। এতে দেখা যায়, কোথাও কর ও বাজেট উভয় ক্ষেত্রেই লিঙ্গসমতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আবার কোথাও একটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলেও অন্য ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। ফলে সামগ্রিক সমন্বয়ের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

করনীতি: ‘নিরপেক্ষ’ নিয়মও সব সময় নিরপেক্ষ নয়

কর ব্যবস্থায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

প্রথমত, করদাখিল পদ্ধতি। যৌথ বা পৃথক করদাখিল শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করে। পৃথক করদাখিল ব্যবস্থা নারীদের কর্মসংস্থানে উৎসাহ দেয়—বিশেষত যখন শিশুসেবা ও নমনীয় কর্মব্যবস্থা যুক্ত থাকে। তবুও কিছু দেশে বাধ্যতামূলক যৌথ দাখিল প্রচলিত রয়েছে, আবার কোথাও করদাতারা পছন্দের সুযোগ পান।

দ্বিতীয়ত, আয়কর বিধান। কিছু দেশে নারীদের জন্য করমুক্ত আয়ের উচ্চসীমা বা নারী নিয়োগে করছাড়ের মতো ইতিবাচক ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে কোথাও এমন বিধান আছে, যেখানে পরিবারের ভাতা বা করছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বামীর নামে বরাদ্দ হয়, যা নারীর আর্থিক স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করে।

তৃতীয়ত, কর প্রশাসন ও তথ্যসংগ্রহ। ৮১টি অর্থনীতির মধ্যে মাত্র ৪১টিতে কর নিবন্ধনের সময় নারী-পুরুষভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আর কোনো দেশই করব্যয় প্রতিবেদনে নারী-পুরুষভিত্তিক প্রভাব বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করে না। ফলে করছাড়, অব্যাহতি বা প্রণোদনা নারী ও পুরুষের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা সঠিকভাবে বোঝা যায় না।

এই বাস্তবতা প্রমাণ করে, কর কাঠামোর নকশা সরাসরি সমতা ও দক্ষতার ওপর প্রভাব ফেলে। পৃথক করদাখিল, প্রশাসনিক সরলীকরণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা জোরদার করলে ন্যায্যতা ও অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।

Women, Business and the Law 2024

বাজেট: সরকারি ব্যয় কি নারীর সুযোগ বাড়ায়

সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও লিঙ্গমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, আইন ও নীতিগত কাঠামো। ৫০টি অর্থনীতির মধ্যে ৪১টিতে এমন আইন বা নীতি রয়েছে, যা বাজেট প্রক্রিয়ায় নারী-পুরুষের ভিন্ন প্রভাব বিবেচনা করে। এতে নীতিগত স্থায়িত্ব বাড়ে।

দ্বিতীয়ত, নারী-পুরুষভিত্তিক তথ্য প্রকাশ। কিছু দেশ কর্মসূচিভিত্তিক উপকারভোগীর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ায়।

তৃতীয়ত, প্রভাব মূল্যায়ন। অল্পসংখ্যক দেশ নিয়মিতভাবে ব্যয়ের লিঙ্গভিত্তিক প্রভাব মূল্যায়ন করে। মাত্র কয়েকটি দেশে এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

চতুর্থত, নারীদের জন্য নির্দিষ্ট বা চিহ্নিত বরাদ্দ। ৪২টি অর্থনীতি নারী ও কন্যাশিশুর জন্য আলাদা তহবিল নির্ধারণ করে। তবে এসব বরাদ্দ কার্যকর হতে হলে তা জাতীয় অগ্রাধিকার ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।

বাজেট রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত করে। পুরো বাজেট চক্রজুড়ে তথ্য, মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি ব্যয় সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে পারে।

মানচিত্রায়ন থেকে বাস্তব প্রভাব

এই গবেষণা একটি সূচনা মাত্র। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন—যেমন কর-সুবিধার বণ্টন বিশ্লেষণ, আচরণগত গবেষণা এবং ব্যয় কর্মসূচির প্রভাব পর্যালোচনা। রাজস্ব ও ব্যয়—উভয় দিক একত্রে মূল্যায়ন না করলে সামগ্রিক প্রভাব বোঝা যায় না।

এর জন্য প্রয়োজন আরও নির্ভরযোগ্য নারী-পুরুষভিত্তিক তথ্য, শক্তিশালী গৃহস্থালি জরিপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে রাজস্ব কাঠামোকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা বৈষম্য বাড়ায় না, বরং সমতা জোরদার করে।

এই উদ্যোগ সরকারগুলোকে অগ্রগতি পরিমাপ ও সংস্কারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্যনির্ভর সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব নীতিকে সমতার শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।